

সরকারি নির্দেশিকা ঘিরে ক্ষোভ ছড়ালো চাকুরিজীবী মহলে। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে এক নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, রাজ্যের সব শিক্ষক, অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের বাড়িতে বসাতে হবে স্মার্ট মিটার। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষকমহলের একটা বড়ো অংশ। তাদের স্পষ্ট অভিমত, কোনও ব্যক্তি কীভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন, কোন জাতীয় মিটার বসাবেন তা সরকার কীভাবে ঠিক করে দিতে পারে?
রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যাঁরা রাজ্যের তহবিল থেকে বেতন, সাম্মানিক বা পারিশ্রমিক পান তাঁদের সকলকেই বাড়িতে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টর স্কিম’ (Revamped Distribution Sector Scheme – RDSS) অনুসারে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে হবে এবং এই মিটার বসাতে হবে। এই নির্দেশিকা সব বিভাগের প্রধান, পুলিশের ডিজি, ডিভিশনাল কমিশনার, পুলিশ কমিশনার এবং জেলাশাসককে পাঠিয়ে বলা হয়েছে তাঁরাই সরকারি কর্মীদের কাছে এই নির্দেশ পৌঁছে দেবেন।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতার এক কলেজের অধ্যাপক জানিয়েছেন, এভাবে সরকার কোনও নির্দেশিকা জারি করে কিছু করতে আমাদের বাধ্য করতে পারে কি? আমরা আমাদের বাড়িতে কোন জিনিস ব্যবহার করব তা একান্তই আমাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এভাবে কোনও নির্দেশিকা জারি করে সরকার কীভাবে কারোর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে?
অন্য এক শিক্ষক জানালেন, এই ধরণের মিটার আসলে প্রিপেড মিটার। আগে টাকা না দিলে এই মিটার ব্যবহার করা যাবেনা। এছাড়াও এই ধরণের মিটারে বিদ্যুতের দাম অনেক বেড়ে যাবার সম্ভাবনা। যাতে অনেককেই অসুবিধায় পড়তে হবে। তাঁর মতে, কে কার বাড়িতে কী ব্যবহার করবে তা নিয়ে সরকার কোনও নির্দেশ দিতে পারেনা।
গত ১০ জুনের সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (West Bengal State Electricity Distribution Company - WBSEDCL) তাদের মোট ৫৫৪টি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের (Customer Care Centre - CCC) মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০৩টি কেন্দ্রকে এই কাজের জন্য বেছে নিয়েছে। এই ১০৩টি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের আওতাধীন এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ বণ্টনে ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত বেশি, যা রাজ্যের রাজকোষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি করছে। এই এলাকাগুলিতে কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বাকি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারগুলির আওতাধীন এলাকাতেও স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ হাতে নেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন এই মিটারে কোনও গ্রাহক চাইলে ‘পোষ্ট পেইড’ পছন্দ নিতে পারেন, যা বর্তমান নিয়ম অনুসারেই চলবে। কোনও গ্রাহক চাইলে তিনি ‘প্রি-পেইড’ পছন্দ নিতে পারেন।
প্রসঙ্গত গত বছরের জুন মাসে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় জেলায় স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে বিক্ষোভের পর প্রিপেড মিটার নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে তৎকালীন রাজ্য সরকার। সেই সময় বিধানসভা অধিবেশনে রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানিয়েছিলেন, স্থগিত নয়, পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে স্মার্ট মিটার। পাশাপাশি তিনি আরও জানান, বর্তমানে যে সমস্ত স্মার্ট মিটার বসানো হয়েছে, সেগুলিও সাধারণ মিটারে রূপান্তরিত করা হবে। অর্থাৎ পূর্বের মতো তিন মাসে বিল জমা দিতে পারবেন গ্রাহকেরা।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন