

গা ঢাকা দিয়ে, সিম কার্ড বদল করেও শেষরক্ষা হল না। অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। রাজ্যে পালা বদলের পর তিনি তৃণমূলের মমতা শিবির থেকে ঋতব্রত শিবিরে যোগদানের চেষ্টা করেছিলেন। যদিও তাতে কাজ হয়নি। এরপর তাঁর নামে নতুন করে এফআইআর দায়ের হতেই তিনি গা ঢাকা দেন। বৃহস্পতিবার তাঁকে ওড়িশার পুরী সংলগ্ন অঞ্চলের এক হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওড়িশার আদালতে পেশ করার পরে তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসা হবে।
নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ?
পানিহাটির এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দুর্নীতি, লটারির টিকিট কেড়ে নেওয়া, ভয় দেখানো সহ একাধিক অভিযোগ আছে। বিধায়ক থাকাকালীন তিনি রীতিমত এলাকার ত্রাস ছিলেন বলেই সাধারণ মানুষের অভিযোগ। ২০২৪-এর অভয়া কান্ডেও নাম জড়িয়েছিল এই তৃণমূল বিধায়কের। ওই সময় অভয়ার দেহ তড়িঘড়ি দাহ করতে প্রশাসনের সঙ্গে তৎপর হয়ে উঠেছিলেন এই নির্মল ঘোষ বলেই অভিযোগ। শ্মশানে মৃতদেহের লাইন থাকলেও তা টপকে অভয়ার দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অভয়ার বাবা মা।
৯ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ
গত ৯ আগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনকে তৎপর হবার নির্দেশ দেন। এরপরেই অভয়ার মৃতদেহ তড়িঘড়ি পুড়িয়ে দেবার ঘটনায় নির্মল ঘোষ, স্থানীয় পুর প্রতিনিধি সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নামে নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হয়।
কে এই নির্মল ঘোষ?
নির্মল ঘোষ অভয়ার এলাকার তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন। ঘটনার দিন অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৯ আগষ্ট অভয়ার বাবা-মায়ের সঙ্গে আর জি করে গিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার দিন সংবাদ মাধ্যমে নির্মল ঘোষ জানিয়েছিলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য মূল অপরাধীকে ধরা। সকলে তার জন্য চেষ্টা করছেন। সিপি-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা এসেছেন। প্রশাসনিক কর্তারাও আছেন। একটি নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। কর্তব্যরত চিকিৎসককে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছে। বিচার সুনিশ্চিত করার জন্য আমাদের তরফ থেকে যা করার করছি। ক্যামেরার সামনেই যা হওয়ার হচ্ছে।’’ এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তাঁকে তলব করে সিবিআই।
তৃণমূলের পরাজয়ের পর কী করেছিলেন নির্মল ঘোষ?
নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয় এবং ভাঙনের পর গত ১১ জুলাই তপসিয়ায় তৃণমূলের ঋতব্রত গোষ্ঠীর এক বৈঠক স্থলে আচমকাই হাজির হয়ে যান রাজ্য বিধানসভার প্রাক্তন মুখ্য সচেতক ও তৃণমূল নেতা নির্মল ঘোষ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ঋতব্রত গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাঁকে ওই বৈঠকে আসতে বলা হয়েছে। তাই তিনি এসেছেন এবং কথা বলেছেন। পরে প্রয়োজনে আবার আসবেন। যদিও তাঁর এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেই গ্রেপ্তার করা হয় তাঁর ছেলে তথা তৃণমূল নেতা তীর্থঙ্কর ঘোষকে। যে ঘটনার পর ফের গা ঢাকা দেন নির্মল ঘোষ।
এসএসসি-র অযোগ্য চাকরি প্রাপকদের নামের তালিকায় নির্মল ঘোষের পরিবারের সদস্যর নাম
উল্লেখ্য, এসএসসির প্রকাশিত 'অযোগ্য' চাকরিপ্রাপকদের তালিকাতেও নাম রয়েছে পানিহাটির তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষ এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুর রহমানের পরিজনদের নাম। তালিকায় নির্মল ঘোষের পুত্রবধূ শম্পা ঘোষের নামও ছিল। তিনি নৈহাটির মহেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
তিন বারের বিধায়ক নির্মল ঘোষ
পানিহাটি কেন্দ্র থেকে একটানা তিনবার তৃণমূল বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন নির্মল ঘোষ। ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে। যদিও এবারের নির্বাচনের পর নির্মল ঘোষকে সেভাবে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ২০২৬-এর নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে তাঁর বদলে তৃণমূল প্রার্থী করে তাঁরই ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে। যিনি বিজেপি প্রার্থী ও অভয়ার মায়ের কাছে এই নির্বাচনে পরাজিত হন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন