নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরাণী রথের হলফনামা নিয়ে বিতর্ক দানা বাধলো। যার জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। কংগ্রেস এবং সিপিআইএম-এর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে। মূলত বিজেপি প্রার্থীর বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা বিষয়ে তথ্যগত অসংগতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিলের বিষয়টিও সামনে আনা হয়েছে।
নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী করেছে হাসিরাণী রথকে। যিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরেই ৬ মে দুষ্কৃতীদের আক্রমণে মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথ রথের।
কমিশনে যে অভিযোগ জানানো হয়েছে তাতে বলা হয়েছে যে স্কুল থেকে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানী রথ মাধ্যমিক পাশ করেছেন বলে দাবি করেছেন ওইসময় সেই স্কুলের মাধ্যমিকের অনুমোদন ছিল না।
নির্বাচন কমিশনে হাসিরানী রথের জমা দেওয়া হলফনামা অনুসারে তাঁর বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ৬০+, অর্থাৎ ৬০-এর বেশি। যার অর্থ তাঁর জন্ম সাল ১৯৬৫ অথবা ৬৬। অন্যদিকে ওই হলফনামাতেই তিনি জানিয়েছেন, ১৯৬৫ সালে তিনি চৌখালি গঙ্গা পদ্মা মিলন বিদ্যাপীঠের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। বিরোধীদের মূল অভিযোগ এই হলফনামার এই তথ্য নিয়েই।
প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই প্রসঙ্গে মধ্যপ্রদেশে রাজ্যসভা নির্বাচনে মীনাক্ষী নটরাজনের নাম স্ক্রুটিনির পরে বাতিল হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বিজেপি প্রার্থী হাসিরাণী রথের মনোনয়ন বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে। কংগ্রেসের বক্তব্য, নিয়ম সকলের জন্য এক হওয়া উচিত।
সিপিআইএম-এর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বলা হয়েছে, যে স্কুলের কথা উনি উল্লেখ করেছেন সেই সময় ওই স্কুলের মাধ্যমিক অনুমোদনই ছিল না। ভুল তথ্য দিলে কমিশনের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুসারে ওই স্কুল মাধ্যমিকের অনুমোদন পায় ১৯৭৩ সালে। যদিও নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রসঙ্গে ওঠা বিতর্কে মুখ খুলতে রাজি হননি নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরাণী রথ।
উল্লেখ্য, রাজনীতির ময়দানে একেবারেই নতুন মুখ নন হাসিরাণী রথ। তিনি নিজেই সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি দু’বারের পঞ্চায়েত সদস্য এবং তিনবারের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। ১৯৯৮ সাল থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তৃণমূলের সদস্য হিসেবে পঞ্চায়েত স্তরে অতীতে বিভিন্ন গুরুদায়িত্ব সামলেছেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন