

‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাইলো সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়ায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি (Logical Discrepancy) হিসেবে কোনটিকে গণ্য করা হবে তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আদালতে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেবার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে এসআইআর বিষয়ক মামলার শুনানি হয়। মূলত এসআইআর-এর কিছু বিষয়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ এবং অমৃতা জোহরির করা রিট পিটিশনের শুনানি চলাকালীন আদালত নির্বাচন কমিশনের কাছে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করে।
ভোটার তালিকার এসআইআর নিয়ে বর্তমানে দেশ জুড়ে বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার কাছেও নোটিশ গেছে। নোটিশ পেয়েছেন আরও বহু বিশিষ্ট জন। যা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। প্রসঙ্গত, দিল্লির খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ৪৭ লক্ষ নাম। আজই অরুণাচল প্রদেশে এসআইআর-এর পর যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে তাতেও বাদ গেছে ১ লক্ষ ৯১ হাজার নাম।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়েও তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। সেখানেও উঠে এসেছিল লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির বিষয়। যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা চলছে। সব ক্ষেত্রেই অভিযোগ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কথা বলা হলেও তথ্যগত অসংগতির নির্দিষ্ট কোনও সংজ্ঞা বা মাপকাঠি সম্পর্কে জানায়নি নির্বাচন কমিশন।
মঙ্গলবার আদালতে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ ও নেহা রাঠীর মাধ্যমে আবেদনকারীরা জানিয়েছেন, যে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কথা বলে নোটিশ জারি করা হচ্ছে তার সঙ্গে কোনও ব্যক্তির ভোট দেবার যোগ্যতার কোনও সম্পর্ক নেই। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, বাবা মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাক কম অথবা দাদু দিদার সঙ্গে বয়সের ফারাক ৪০ বছরের কম, কোনও পরিবারে পাঁচ জনের বেশি ভাইবোন থাকার মত বিষয়গুলিকেও এর আওতায় আনা হচ্ছে।
বলা হয়েছে শুধুমাত্র এই ধরণের অসঙ্গতির ভিত্তিতে প্রবীণ নাগরিক, প্রান্তিক মানুষ, গরীব মানুষদের নির্বাচক তালিকা, নোটিশ প্রক্রিয়া, তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকির মুখে দাঁড় করিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক এবং স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন