রাজ্য সূচনা হল জনকল্যাণ শিবিরের। ১৫ জুন শুরু হয়ে ১৭ জুন পর্যন্ত এই শিবির চলবে। সোমবার নন্দীগ্রাম থেকে রাজ্যে জনকল্যাণ শিবিরের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী তিন দিন রাজ্যের ১১০০ জায়গায় এই জনকল্যাণ শিবির চলবে।
জানা গেছে তিন দিন ধরে যে জনকল্যাণ শিবির চলবে তাতে অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত যোজনা, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, পাট্টার আবেদন, জমির রেকর্ডে ছোটখাটো সংশোধন, জমির রেকর্ড মিউটেশন, CAA আবেদন, কৃষি পরিকাঠামো তহবিল, ছাত্র ছাত্রীদের জন্য স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত নানা বিষয়ে এই শিবির থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে। থাকবে নাম নথিভুক্ত করার সুবিধাও।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৫ জুন সকালের হিসেব অনুযায়ী রাজ্যের ৭৯ লক্ষ দিদি, বোন, মায়ের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকে গেছে। আগামী জুলাই থেকে রাজ্যের মানুষ পাবেন আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড। যাতে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা খরচে চিকিৎসা করানো যাবে। এছাড়াও ১ জুলাই থেকে শুরু হবে বিকশিত ভারত জি রাম জি (VB-G RAM G) কর্মসূচি। যেখানে ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিনের কাজ পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে রাজ্যের নীতি হবে ত্রিমুখী। সরকারি কর্মসংস্থানে স্বচ্ছতাই হবে শেষ কথা। এই সরকারের আমলে কোনও সুপারিশ ও খাতা বদল চলবে না। ওএমআর শিটের কার্বন কপি বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে অ্যাকাডেমিকের নম্বর নিয়েও বিবেচনা করা হবে। এছাড়াও প্রকৃত তফশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতি, অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জাতি, প্রতিবন্ধী, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়াদের জন্য চাকরিক্ষেত্রে নিয়ম মেনে সংরক্ষণ হবে।
বিগত সরকারের দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এদিন তিনি বলেন, বিগত সরকারের দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং সরকারি টাকার লুট দেখলে অবাক লাগে। যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়ার যোগ্য নন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেছে, কেউ মারা গেছে, কেউ ভারতীয় নয়, এমনকী কয়েক লক্ষ পুরুষের অ্যাকাউন্টেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হয়েছে। বিধবা ভাতা দেওয়া হয়েছে পুরুষদের।
নতুন সরকারের কাজের শুরুতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষ আমাদের পাশে থাকুন, সরকারও আপনাদের পাশে রয়েছে। আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে সব তালিকা তৈরি করছি। একবারই এই তালিকা তৈরি হবে। আপনাদের যা যা প্রয়োজন ডবল ইঞ্জিন সরকার সব কিছু আপনাদের কাছে পৌঁছে দেবে। এখানে মাঝখানে কোনও মধ্যসত্ত্বভোগী রাখা হবে না।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা এতদিন বঞ্চিত হয়েছেন তারা আবাস যোজনায় নাম নথিভুক্ত করুন। স্বচ্ছতার সঙ্গে সার্ভে করা হবে। এরপরেও যদি কারোর অভিযোগ থাকে তাহলে কর্মসূচির টোল ফ্রি নাম্বারে অভিযোগ জানাবেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন