Bharat Bandh: ৪ শ্রমকোড বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে ধর্মঘট, রাজ্যে শিল্প ধর্মঘটে আশাতীত সাড়া - জিয়াউল আলম

People's Reporter: সিআইটিইউ পশ্চিমবঙ্গ কমিটির সম্পাদক জিয়াউল আলম জানান, রাজ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষার কারণে ধর্মঘটে বেশ কিছু ছাড় ছিল। কিন্তু এসব সত্ত্বেও আজকের ধর্মঘটে রাজ্যজুড়ে আশাতীত সাফল্য পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার কলকাতায় ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিল
বৃহস্পতিবার কলকাতায় ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিল ছবি সংগৃহীত
Published on

সিআইটিইউ সহ ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা দেশব্যাপী ধর্মঘটে সাড়া মিললো দেশজুড়েই। ধর্মঘটে যোগ দিয়েছে বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চাও। দক্ষিণের রাজ্যগুলি সহ অধিকাংশ রাজ্যেই ধর্মঘটের ভালোরকম প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। চারটি শ্রমকোড বাতিল সহ মোট ১১ দফা দাবিতে ছিল এদিনের ধর্মঘট। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সদ্য হওয়া ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদ।

শ্রমিক সংগঠনের দাবি, গতবছর ২৯টি শ্রম আইন বাতিল করে যে চার শ্রম কোড চালু হয়েছে, তা শ্রমিক স্বার্থবিরোধী৷ নতুন শ্রম কোডে শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। কমেছে চাকরির নিরাপত্তা। অনেক সহজ হয়েছে নিয়োগকর্তাদের কর্মী নিয়োগ ও ছাঁটাই। পাশাপাশি, বেসরকারিকরণ, মজুরি কাঠামো এবং সামাজিক সুরক্ষার অভাব নিয়েও শ্রমিক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ধর্মঘটের দিনে কলকাতায় শ্রমিক ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সিআইটিইউ পশ্চিমবঙ্গ কমিটির সম্পাদক জিয়াউল আলম জানান, আমাদের রাজ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষার কারণে ধর্মঘটে বেশ কিছু ছাড় ছিল। কিন্তু এসব সত্ত্বেও আজকের ধর্মঘটে রাজ্যজুড়ে আশাতীত সাফল্য পাওয়া গেছে। বেশ কিছু জায়গায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অকারণ হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। আমরা পুলিশকে একটু দায়িত্বশীল হতে বলব।

তিনি আরও বলেন, এই প্রথম আমাদের রাজ্য গিগ কর্মীরা, আইটি কর্মীদের একটা বড়ো অংশ ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন। দেখা গেছে, চটকলে, চা ক্ষেত্রে ভালো প্রভাব পড়েছে। আজকের ধর্মঘট শ্রমিক ঐক্যকে আরও দৃঢ় করবে। আজ রাজ্য এবং দেশের সরকারের কাছে আজ একটা কড়া বার্তা দেওয়া গেছে।

রাজ্যে ধর্মঘটের প্রভাব

আজকের ধর্মঘটে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হুগলি, হাওড়া, জলপাইগুড়ি, দুর্গাপুর, আসানসোল, হলদিয়া, শিলিগুড়ি, আগরপাড়া, খড়গপুর প্রভৃতি অঞ্চলে বিভিন্ন কারখানা, জুটমিল, চা বাগানে ধর্মঘট প্রায় সর্বাত্মক হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এদিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

মালদহে জেলা প্রশাসনিক ভবনের কাছে স্টেট ব্যাঙ্কের জেলা মুখ্য দপ্তরের সামনে পুলিশ এলে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ জোর করে তালা খুলতে চাইলে বাধা দেন ধর্মঘটী কর্মচারীরা। একইভাবে মালদহের বিএসএনদল দপ্তরেও পুলিশ হাজির হলে সেখানে ধর্মঘটী কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয়ে যায়।

উত্তরের চা বাগান অধ্যুষিত অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকরা ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন। এই মুহূর্তে একাধিক চা বাগান বন্ধ আছে। যদিও যেসব চা বাগান খোলা আছে সেসব জায়গায় ধর্মঘট প্রায় সর্বাত্মক হয়েছে।  

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথিতে সাধারণ ধর্মঘট এবং শিল্প ধর্মঘটের সমর্থনে কাঁথি পোস্ট অফিসের সামনে শ্রমকোড বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান ধর্মঘটীরা। জেলার হলদিয়া ও অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের ভালো প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

খিদিরপুরের বন্দর এলাকা থেকে হুগলীর শিল্পাঞ্চলে এদিন বন্ধ ছিল কাজ। কলকাতার পোস্তা, বড়বাজার প্রভৃতি এলাকায় মাল ওঠানামার কাজ ব্যাহত হয়েছে। হুগলির চটকল এলাকার কারখানার গেটে গেটে পিকেটিং করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকরা মিছিল করেন।

বাগুইআটি স্টেট ব্যাঙ্কের সামনে পিকেটিং করার সময় সিআইটিইউ কর্মীদের উপর পুলিশী হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন বাম নেতৃত্ব। পশ্চিম মেদিনীপুরের শিল্পাঞ্চলে এদিন বেশ কয়েক হাজার শ্রমিক ধর্মঘটে যোগ দেন।  

বৃহস্পতিবার কলকাতায় ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিল
CITU: স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স-এর ধর্মঘটী শ্রমিকদের সমর্থনে তামিলনাড়ু জুড়ে বিক্ষোভে সিআইটিইউ
বৃহস্পতিবার কলকাতায় ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিল
সাংবাদিকদের বাইট দেওয়ার সময় পাশে আচমকা উপস্থিত রাহুল গান্ধী, তড়িঘড়ি পালালেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in