Beldanga: অবশেষে লাঠিচার্জে উঠলো অবরোধ; খোকাবাবুকে নিরাপত্তা দিতে গেছে পুলিশ - কটাক্ষ অধীরের

People's Reporter: তবে এখনও বন্ধ রয়েছে কৃষ্ণনগর-লালগোলা ট্রেন চলাচল। আপাতত ওই লাইনে ট্রেন না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। শনিবার বিক্ষোভকারীরা স্টেশনের কাছে থাকা রেলের সিগন্যাল ভেঙে দেয়।
বেলডাঙায় লাঠিচার্জ করে অবরোধ তুলল পুলিশ
বেলডাঙায় লাঠিচার্জ করে অবরোধ তুলল পুলিশ নিজস্ব ছবি
Published on

গতকাল থেকে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। বিভিন্ন মহল থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছিল। অবশেষে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেল তাদের। লাঠিচার্জ করে অবরোধ তুলল পুলিশ। কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, ‘‘মোট ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।“

তিনি আরও জানান, “আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তোলার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তাঁরা কোনও ভাবেই তাতে কর্ণপাত করছিলেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষপর্যন্ত আমরা লাঠিচার্জ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে বাধ্য হই। এই মুহূর্তে এলাকায় কোনও পথঅবরোধ নেই।‘’

তবে এখনও বন্ধ রয়েছে কৃষ্ণনগর থেকে লালগোলা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল। আপাতত ওই লাইনে ট্রেন না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। শনিবার বিক্ষোভকারীরা বেলডাঙা স্টেশনের আগের রেলগেটের বুম ভেঙে দেন। ভেঙে ফেলা হয় স্টেশনের কাছে থাকা রেলের সিগন্যাল। তারপরই ট্রেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সমস্ত কিছু মেরামত করার পর ফের পরিষেবা চালু করা হবে বলে জানা গেছে।

বেলডাঙার ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে সরব হয়েছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরা। তিনি বলেছেন, "বহরমপুর শহরে খোকাবাবু আসছেন, বাংলার রাজপুত্র, তাঁর নিরাপত্তার জন্য বহরমপুর বাসস্ট্যান্ড ১১টা থেকে ৪টে পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তাঘাট সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কার পক্ষে প্রশাসন এটা সহজেই বোঝা যায়। কোনও মন্ত্রকের দায়িত্বে নেই, কোনও মন্ত্রী নন তিনি...সাধারণ একজন জনপ্রতিনিধি তাঁর নিরাপত্তার স্বার্থে বহরমপুর শহরে সমস্ত রাস্তাঘাট বন্ধ।পুলিশ সব সেখানে থেকে গেছে। খোকাবাবুর নিরাপত্তা...খোকাবাবু কে, যে তাঁর জন্য নিরাপত্তা দিতে হবে?"

তিনি আরও বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নৈতিক মেরুদণ্ড বলে কিছু নেই। আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ একদম স্বাভাবিক। কেউ অস্বীকার করছে না। এটা যাতে না হয় তার জন্য আমরা বহুবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সচেতন করেছিলাম। ইউনিক আইডেনটিটি কার্ড চালু করুন। প্রত্যেক রাজ্যে ওয়েলফেয়ার অফিসার নিয়োগ করুন। প্রত্যেক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলুন। প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ান। নাহলে এই ধরনের ঘটনা ভারতের অন্য জায়গায় বাড়তে পারে। এই সতর্কতা সেই কোভিডের সময় থেকে দিয়ে এসেছি আমরা।"

উল্লেখ্য, শুক্রবার থেকে উত্তপ্ত বেলডাঙা। বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ (৩০) ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। আলাউদ্দিনের পরিবার-আত্মীয়দের অভিযোগ, তাকে পিটিয়ে খুন করার পর দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ওই পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ গ্রামে ফেরে। এরপরই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারি ও শাস্তির দাবিতে টায়ার জ্বালিয়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং রেল অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে চলে অবরোধ। চরম ভোগান্তির শিকার হন হাজার হাজার যাত্রী।

এরপর শনিবার ফের অশান্ত হয়ে ওঠে বেলডাঙা। জানা যায়, এবার বিহারে এক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় এলাকায়। আজও ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করে রাখেবিক্ষোভকারীরা। 

শুক্রবারের মতো আজও বেলডাঙায় উন্মত্ত জনতার হাতে আক্রান্ত হয়েছে সংবাদমাধ্যম। আক্রান্ত হন এবিপি আনন্দের সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ এবং তাঁর সঙ্গে থাকা চিত্রসাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষ। তাঁদের ক্যামেরা-মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। কোনওরকমে মোটরবাইকে করে এলাকা ছাড়েন দু’জন বলে জানা গেছে। হাতে গোনা কয়েকজন পুলিশ সেই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন। সমস্ত ঘটনা সামলাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। গতকাল জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতি ও তাঁর চিত্র সাংবাদিক রঞ্জিত মাহাতোও আক্রান্ত হয়েছিলেন। এছাড়াও আক্রান্ত হন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অন্তত ১২ জন কর্মী।

বেলডাঙায় লাঠিচার্জ করে অবরোধ তুলল পুলিশ
CPIM: বেলডাঙায় সেলিম, মীনাক্ষী - সাম্প্রদায়িকতা ভুলে ঐক্যের বার্তা বাম নেতৃত্বের
বেলডাঙায় লাঠিচার্জ করে অবরোধ তুলল পুলিশ
Beldanga: শনিবার ফের অশান্ত বেলডাঙা! অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক, বন্ধ ট্রেন চলাচল, আক্রান্ত সংবাদমাধ্যমও

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in