

গত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গাতে। বৃহস্পতিবার সেই বেলডাঙ্গায় প্রকাশ্য সমাবেশে জাত ধর্মের বিভেদ ভুলে ঐক্যের বার্তা দিল সিপিআইএম। পাশাপাশি, সমাবেশ থেকে তৃণমূল এবং বিজেপিকে আক্রমণ করেছে সিপিআইএম নেতৃত্ব।
বৃহস্পতিবার বেলডাঙ্গার সমাবেশ থেকে সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, ‘মানুষ বিভাজনের রাজনীতিতে জেরবার। এর মাঝে আদানি-আম্বানি কয়েক হাজার কোটি টাকার পাহাড় জমা করে নিয়েছে। নির্বাচনের সময় মোদী আর মমতাকে ইলেক্টোরাল বন্ডের নামে দু’জনেই টাকা দেন। সেই টাকা কিছুটা হুমায়ুন কবির, কার্তিক মহারাজ এবং গণেশ মহারাজরাও পান। তারা আসলে সুপারি পান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তৈরির’।
এদিন সেলিম আরও বলেন, ‘লোকসভা ভোটের সময়েও মুর্শিদাবাদে বিভাজনের রাজনীতি হয়েছিল সিপিআইএম, কংগ্রেসকে হারাতে। কোনও ধর্মই অপকর্ম করতে শেখায় না। কিছু লোক ধর্মগুরু সাজে। মানুষের বিশ্বাসকে কুৎসিতভাবে ব্যবহার করা হয়। ধর্মস্থানে আক্রমণ করতে যায় কারা? যারা সাম্প্রদায়িক।’
দেশ জুড়ে ধর্মের বিভাজন নিয়ে সেলিম বলেন, ‘আমাদের দেশে ধর্মের নামে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র তৈরি করা হচ্ছে। বিজেপির ফ্যাসিবাদ নির্মাণের কাজে তৃণমূল ভাড়ায় খাটছে, যাতে বিজেপির কাজ সহজ হয়’।
এরপরেই বেলডাঙ্গার সাম্প্রদায়িক ঘটনা নিয়ে সেলিম বলেন, ‘বেলডাঙার ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। তৃণমূলের আমলে অপরাধীদের বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। পুলিশই এই কাজে মদত দিয়েছে। রানিগঞ্জ, ধুলাগড় থেকে কোচবিহার - রাজ্যে অনেকগুলি দাঙ্গা হয়েছে মমতা ব্যানার্জির রাজত্বে। একজন দোষীরও সাজা হয়নি’।
এরপরেই সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে সেলিমের আহ্বান, ‘দেশ, রাজ্য বাঁচাতে হলে লাল ঝান্ডাকে মজবুত করতে হবে। সব মানুষকে এককাট্টা হতে হবে। যাতে যারা জাত, ধর্মের নামে মানুষকে ভাগ করছে তারা শুকিয়ে যায়। তৃণমূল আর বিজেপি’র দালালদের বলব মানুষের আবেগকে নিয়ে, ধর্মকে নিয়ে রাজনীতি করা বন্ধ করতে হবে’।
এদিনের প্রকাশ্য সমাবেশে দলের মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সম্পাদক জামির মোল্লা বলেন, ‘তৃণমূল আর বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করছে। এরা হিন্দু, মুসলমান উভয়ের শত্রু। রাজ্যের শান্তি, সম্প্রীতির ঐতিহ্য ভেঙে চুরমার করা হচ্ছে। রাজ্যের ঐতিহ্য, সম্প্রীতি রক্ষা করতে হবে’।
বাম যুব নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি এই সমাবেশকে শপথের সমাবেশে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যখন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এই সমাবেশ হচ্ছে, তখন কলকাতার রাস্তায় যোগ্য শিক্ষকরা রাত জাগছে। আইসিডিএস সেন্টারগুলি ফাঁকা। স্কুল বন্ধ করে দিয়ে মদের দোকান খুলে দিয়েছে সরকার। আর জি করের খুনি, ধর্ষকরা গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আক্রান্ত সংবিধান। সাফ বলতে হবে দালালি কাউকে করতে দেবো না। আগে ভাতের ব্যবস্থা, তারপর হিন্দু মুসলমানের খোঁজ’।
তিনি আরও বলেন, ‘বেলডাঙার ঘটনা নিয়ে পুলিশকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। যারা ঐক্যে আঘাত আনছে পুলিশ কেন তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না? বামফ্রন্ট সরকারের ৩৪ বছরে দাঙ্গাবাজদের বাড়াবাড়ি করার সাহস হয়নি। কার্তিক মহারাজ থেকে অনন্ত মহারাজ - গোটা ভারতবর্ষে দাঙ্গার পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে সকলে নিজেদের ক্ষমতা দখল রাখতে। এদেরকেই বিজেপি তৃণমূল ব্যবহার করছে।'
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন