

গতকালের পর আজ ফের অশান্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। শনিবার বেলার দিকে বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় অবরোধ করেন কয়েকশো মানুষ। জানা গেছে, এবার বিহারে এক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে উত্তজনা ছড়িয়েছে বেলডাঙায়।
১২ নম্বর জাতীয় সড়ক দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। বেলডাঙা স্টেশন লাগোয়া রেলগেটেও ভাঙচুর চালায় তারা। ভেঙে ফেলা হয় স্টেশনের কাছে থাকা রেলের সিগন্যাল। কৃষ্ণনগর থেকে লালগোলা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদে পাঠানো হচ্ছে RPF ও RPSF, এমনটাই জানিয়েছেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মিলিন্দ কে দেউস্কর।
আজ উত্তেজনার মাঝেই অবরোধস্থলে হাজির হন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি বিক্ষোভকারীদের অবরোধ তুলতে বললেন। তিনি বলেন, “কাল সারাদিন হয়েছে। আবার আজ তোমরা উচ্ছৃঙ্খলতা করছ। কে উস্কানি দিচ্ছে এখানে?” কিন্তু তাঁর কথা শুনতে অস্বীকার করেন বিক্ষোভকারীরা। বড়ুয়া মোড় থেকে রেল লাইন - সব জায়গা নিজেদের দখলে নেন তারা।
অন্যদিকে শুক্রবারের মতো আজও বেলডাঙায় উন্মত্ত জনতার হাতে আক্রান্ত হয়েছে সংবাদমাধ্যম। আক্রান্ত হন এবিপি আনন্দের সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ এবং তাঁর সঙ্গে থাকা চিত্রসাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষ। তাঁদের ক্যামেরা-মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কোনওরকমে মোটরবাইকে করে এলাকা ছাড়েন দু’জন বলে জানা গেছে। হাতে গোনা কয়েকজন পুলিশ সেই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন। সমস্ত ঘটনা সামলাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। গতকাল জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতি ও তাঁর চিত্র সাংবাদিক রঞ্জিত মাহাতোও আক্রান্ত হয়েছিলেন। এছাড়াও ওইদিন আক্রান্ত হন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অন্তত ১২ জন কর্মী।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ (৩০) ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। আলাউদ্দিনের পরিবার-আত্মীয়দের অভিযোগ, তাঁকে পিটিয়ে খুন করার পর দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ওই পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ গ্রামে ফেরে। এরপরই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারি ও শাস্তির দাবিতে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং রেল অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা।
জনতার ক্ষোভ প্রশমনে রাস্তায় নেমেছিলেন মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নিতিন সিংহানিয়া। উত্তেজিত জনতাকে প্ররোচনায় পা না-দেওয়ার অনুরোধ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও ওঠেনা অবরোধ। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে চলে অবরোধ। চরম ভোগান্তির শিকার হন হাজার হাজার যাত্রী। সমস্ত ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন