

হাতে ডিম নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার বদলে প্রিজন ভ্যান ঘিরে ছিলো বহু মানুষ। আদালত থেকে বেরিয়ে হাত মুঠো করে ওপরে তুলে দলীয় কর্মী সমর্থকদের মুখ থেকে ইনকিলাব জিন্দাবাদ শুনতে শুনতে প্রিজন ভ্যানে উঠলেন বারুইপুরের সিপিআইএম নেতা লাহেক আলি। যিনি ২০২১ এবং ২০২৬ – দু’বার বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে সিপিআইএম প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
রবিবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এদিনই তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়। সরকার পক্ষের আইনজীবী ১৪ দিনের হেফাজতের আবেদন জানালেও বারুইপুর মহকুমা আদালত তাঁকে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজত দিয়েছে। ৮ দিন পর ফের তাঁকে হাজির করানো হবে আদালতে। এদিন আদালতে নিয়ে যাবার সময় লাহেক আলি প্রিজন ভ্যান থেকে মুখ বাড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। ইচ্ছে করে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বারুইপুরে নাবালিকার গণধর্ষণ, হত্যা, গণপিটুনিতে হত্যার পর এই সিপিআইএম নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় উস্কানি দেবার, প্ররোচনা দেবার। সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়ের যুক্তি খন্ডন করে লাহেক আলির আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পুলিশ পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত করছে। মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করতে লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তের নামে প্রহসন চলছে। ভিডিওতে দেখা গেছে লাহেক আলি ক্ষিপ্ত জনতাকে থামানোর চেষ্টা করছে। অথচ তাঁর নামেই পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত চালু? এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা।
লাহেক আলির গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, রাজনৈতিক কারণেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে লাহেক আলিকে। আসলে সরকার ভয় দেখাতে চাইছে। অন্যদিকে সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ লাহেক আলির গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে বলেন, পুলিশকে কাজে লাগিয়ে লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য সরকার। এর বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েই আমরা জয় ছিনিয়ে আনবো।
গত মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, পুলিশের ওপর যারা হামলা করেছে এবং এই ঘটনা ঘটাতে উস্কানি দিয়েছে তাদের ছাড়া হবে না। এই ঘটনায় ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর করেছে, রেল লাইন উপড়েছে। তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। কেউ কেউ ০ থেকে ১ হয়েছে। তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উস্কানি দিচ্ছে।’
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন