ফর্ম জমা দিয়েও টাকা আসেনি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। অনলাইন এবং অফলাইন, দুভাবেই ফর্ম জমা দেবার পরেও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না আসায় ক্রমশ ক্ষোভ ছড়াচ্ছে। ১ জুলাই বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা চলে আসার পর এই ক্ষোভ আরও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যের বেশ কিছু অঞ্চলে এই নিয়ে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন মহিলারা।
রাজ্য প্রশাসন সূত্র অনুসারে, ১ কোটি ৩০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। শহর কলকাতায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শাঁখ উলু সহযোগে মিছিল করেছেন বিজেপি মহিলা মোর্চার সদস্যরা। যদিও বেশ কিছু মহিলার অভিযোগ, নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করা সত্ত্বেও এখনও তাদের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা আসেনি।
এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, জয়নগর থেকে জলপাইগুড়ি, বীরভূমের বোলপুর, নদীয়ার শান্তিপুর, হাওড়ার ডোমজুড়, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর ১, ক্ষীরপাই সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন মহিলারা। অভিযোগ উঠেছে, পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সরকারি আধিকারিকদের ঘেরাও করে রাখারও।
যদিও বিষয়টি নিতান্তই কর্মী সংকট এবং সার্ভার সংক্রান্ত বলে জানা যাচ্ছে। তাছাড়াও এখনও যাচাই পর্ব সম্পূর্ণ না হওয়াতেও বহু অ্যাকাউন্টে টাকা আসেনি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী মালতী রাভা রায় জানিয়েছেন, ১ জুলাই থেকে যে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে তা সকলের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে তিন চার দিন সময় লাগবে। সব যোগ্য উপভোক্তাই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন।
হাওড়ার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পঞ্চায়েতে বিরাট সংখ্যায় আবেদনপত্র জমা পড়েছে। কিন্তু ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের সংখ্যা অত্যন্ত কম। তাই আপলোডের কাজে দেরি হচ্ছে।’ অন্য এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নতুন সফটওয়্যারে আবেদন আপলোডের পদ্ধতি আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। তাই ফর্ম আপলোড করতে অনেক বেশি সময় লাগছে। এইসব জটিলতার কারণে আপলোডের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রত্যেক যোগ্য উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্পের টাকা পৌঁছে যাবে।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের পরিবর্ত হিসেবে রাজ্যের নতুন সরকার অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্প এনেছে। লক্ষ্মীর ভান্ডারের মাসিক দেড় হাজার টাকার পরিবর্তে নতুন এই প্রকল্পে মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। যদিও শুরু থেকেই এই প্রকল্পের ১২ পাতার ফর্ম নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। সরকারের পক্ষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন, প্রকৃতই যাঁদের প্রয়োজন তাঁরা কেউ বাদ যাবেন না।
অন্নপূর্ণা যোজনা প্রসঙ্গে নির্বাচনের আগে বলা হয়েছিল কেউ এই সুবিধা থেকে বাদ যাবেন না। যদিও সম্প্রতি বিধানসভায় বাজেট পেশের পর জবাবী ভাষণে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে আয়ের ভিত্তিতে কোনও কার্যকর বাছাই প্রক্রিয়া ছিল না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই এমন অনেক মানুষ লক্ষ্মীর ভান্ডার পেয়েছেন যাঁদের সেই সহায়তার প্রয়োজন ছিল না। ধনী গরিব নির্বিশেষে সকলেই ওই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু সরকারের অর্থ সীমিত। তাই তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে তাই প্রকল্পের নিয়ম ও প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী দিনে এই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা হবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন