আজ ১ জুলাই থেকে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা। বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে হুল দিবসের অনুষ্ঠানে গিয়ে একথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল তিনি জানান, আজ বুধবার থেকেই অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। আজই কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মহিলারা উপস্থিত থাকবেন এবং সেখানেই তাঁদের কয়েকজনের হাতে অন্নপূর্ণা যোজনার চেক তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার হুল দিবসের অনুষ্ঠানে বাঁকুড়ায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫১ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করেছিলেন। যাঁদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লক্ষের বেশি দিদি আর বোনের নাম নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আপনারা শুনলে খুশি হবেন এর মধ্যে ৫ লক্ষ আদিবাসী দিদি বোন আছেন। এঁরা সকলেই ১ জুলাই তাদের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। প্রতিমাসেই সরকার তাদের অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠাবে।
অন্নপূর্ণা যোজনার সূচনায় কী জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
গত মাসেই সূচনা হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা। আগের সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডারের পরিবর্তে বর্তমান বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা শুরু হয়। লক্ষ্মীর ভান্ডারের দেড় হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্নপূর্ণা যোজনায় করা হয় ৩ হাজার টাকা। গত মাসেই নবান্ন থেকে পাঁচ মহিলার হাতে অন্নপূর্ণা যোজনার চেক তুলে দিয়ে প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্নপূর্ণা যোজনার সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন আপাতত ২৮ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে ৩ হাজার টাকা। আগামী ৩ মাস ধরে প্রতি ৭ দিন অন্তর এই তালিকা সংশোধনের কাজ চলবে। তিনি আরও জানান, বিগত শাসকদের আশীর্বাদে অনেক পুরুষও লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাচ্ছিলেন। আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে ফর্ম ফিল আপ এবং ভেরিফিকেশন করবো, যাতে তাঁরা আর সুযোগ পাবেন না।
অন্নপূর্ণা যোজনা সম্পর্কে কী জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী?
যদিও মুখ্যমন্ত্রী জানালেও ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বেশ কিছু ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। উঠেছে বেশ কিছু প্রশ্নও। এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত সম্প্রতি জানিয়েছেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার ছিল সর্বসাধারণের জন্য প্রকল্প। কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনা হল যাঁদের প্রয়োজন শুধু তাদের জন্য। এটাই এই দুই প্রকল্পের পার্থক্য।
বাজেটের জবাবি ভাষণে অর্থমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে আয়ের ভিত্তিতে কোনও কার্যকর বাছাই প্রক্রিয়া ছিল না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই এমন অনেক মানুষ লক্ষ্মীর ভান্ডার পেয়েছেন যাঁদের সেই সহায়তার প্রয়োজন ছিল না। ধনী গরিব নির্বিশেষে সকলেই ওই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু সরকারের অর্থ সীমিত। তাই তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে তাই প্রকল্পের নিয়ম ও প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী দিনে এই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা হবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন