সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আনন্দপুর অগ্নিকান্ডে নিখোঁজের সংখ্যা। ঘটনার পর ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ বলে জানা যাচ্ছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার প্রায় দেড়দিন পর মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে যান দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা। ঘটনাস্থলে এত পরে জনপ্রতিনিধিদের দেখে ক্ষোভ উগরে দেন সাধারণ মানুষ। এই ঘটনায় বিভিন্ন মহল থেকে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভয়াবহ ওই অগ্নিকান্ড নিয়ে এখনও চলছে পারস্পরিক চাপানউতোর। ডেকরেটর্স সংস্থার মালিক যেমন সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, মোমো কারখানার জন্যই আগুন লেগেছে। কারণ ওই কারখানায় অবৈধভাবে কোল্ড ড্রিঙ্কস তৈরি হত। ওদের ওখান থেকেই আগুন লেগেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মঙ্গলবার দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু সাংবাদিকদের বলেন, "অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। যাদের জন্য ঘটনা ঘটলো দায় এড়াতে পারেনা। যা যা প্রয়োজন তাই হবে। সে যেই হোক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা পরিবারগুলোর সাথে আছি। সরকার মানুষগুলোর পাশে আছে। এফআইআর হয়েছে। আমরা নির্দেশ দিয়েছি যেই মালিক হোক গ্রেপ্তার হবে। যখন আগুন লাগে আমি ঘর থেকে মনিটার করেছি। আমি পরে গিয়েছি কি আগে গিয়েছি সেটা কোনো বিষয় নয়।"
আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ওই মোমো কারখানায় গত রবিবার মাঝরাতে আগুন লাগে। লাগোয়া দুটি গুদামে মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন গেলেও সোমবার রাত পর্যন্ত সেই আগুন পুরো নেভানো যায়নি। মঙ্গলবারেও কিছু কিছু জায়গা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে নিখোঁজ ১৪ জন। স্বভাবতই অনুমান করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে নিখোঁজ সকলেই পূর্ব মেদিনীপুরের। তারা ওই কারখানাতেই কর্মরত ছিলেন। যাঁদের গত দু’দিন থেকে কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের পরিবারের অভিযোগ, মেন গেট বন্ধ থাকায় আগুন লাগার পরেও কারখানার ভেতর থেকে কেউ বেরোতে পারেনি।
ঘটনা প্রসঙ্গে দমকল বিভাগের ডিজি জানিয়েছেন, দমকলের পক্ষ থেকে ওই কারখানার কোনও অনুমোদন ছিলনা। আগুন নেভানোর কোনও পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও ওই কারখানা এবং সংলগ্ন গোডাউনে দাহ্য পদার্থ রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, মোমো তৈরির আড়ালে ওই কারখানায় অবৈধভাবে ঠান্ডা পানীয় তৈরি করা হত।
জানা গেছে, মোমো কারখানার সংলগ্ন এক ডেকোরেটরসের গুদামে প্রথম আগুন লাগে। সেখান থেকেই দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে সংলগ্ন এলাকায়। তবে গুদামে আগুন কী ভাবে লাগল, তা স্পষ্ট নয় এখনও। আটকে পড়া কর্মীদের পরিবারের সদস্যেরা জানিয়েছেন, রাত ১টা থেকে গুদাম জ্বলছে। ভিতর থেকে কর্মীরা ফোন করেছিলেন। বাঁচার জন্য দেওয়াল ভাঙার চেষ্টাও করেছিলেন তাঁরা। তার পরে আর কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন