উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচড়াপাড়ার এক স্কুল থেকে উদ্ধার হল ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। বুধবার গভীর রাত থেকে বেসরকারি এক ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে তল্লাশি চালিয়ে বিপুর অঙ্কের এই টাকা উদ্ধার হয়। এই স্কুলেরই ‘সিক রুম’-এর এক আলমারি থেকে পাওয়া গেছে কন্ডোমের প্যাকেটও। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই সুরেন্দ্রনাথ কলেজে বন্ধ থাকা একটি ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল উইয়ে খাওয়া টাকার বান্ডিল।
উদ্ধার হওয়া বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান উতোর। এলাকার নবনির্বাচিত বিধায়ক সুদীপ্ত দাসের মতে, এর সবটাই কালো টাকা। যেভাবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘর থেকে টাকা পাওয়া গেছিল এও তেমনই ঘটনা। এই টাকা স্কুলের টাকা নয়। এই টাকা কমল অধিকারী, সুবোধ অধিকারী, পার্থ ভৌমিকদের। এঁরা নিশ্চই ইডি-সিবিআই-এর ভয়ে স্কুলে এই টাকা লুকিয়ে রাখতো।
যদিও এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল বিকাশ চন্দ্র পাল জানিয়েছেন, এই টাকা স্কুলে ভর্তি ফি-র টাকা। এপ্রিল মাস থেকে অ্যাডমিশনের টাকা জমে ছিল। ব্যাঙ্কে পাঠানোর কথা ছিল, কিন্তু হয়নি। যদিও স্কুলের সিক রুমের আলমারির ভেতর থেকে কন্ডোমের প্যাকেট কীভাবে উদ্ধার হল সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলেও জানিয়েছেন।
জানা যাচ্ছে, টাকা উদ্ধারের পর স্কুলের ক্যাশিয়ার, অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাকাউন্টটেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত চলছে। আরও জানা গেছে, মোট চার জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যার মধ্যে কমল অধিকারী বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুবোধ অধিকারীর ভাই এবং কাঁচড়াপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান। টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেশ কিছু নথি এবং কম্পিউটার।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয়দের বক্তব্য, কাঁচড়াপাড়া অঞ্চলে এই স্কুল অত্যন্ত চালু স্কুল এবং প্রায় দু’হাজার ছাত্র ছাত্রী এই স্কুলে পড়াশুনো করে। কর্মী ও শিক্ষক সংখ্যাও প্রায় একশোর কাছাকাছি। এত কর্মীর প্রয়োজন না থাকলেও তাদের নিয়োগ করা হয়েছিল। তাদের আরও বক্তব্য, যে বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধার হয়েছে তা কোনোভাবেই স্কুলের টাকা নয়। এত টাকা স্কুলে থাকা সম্ভব নয় এই টাকা প্রাক্তন স্থানীয় বিধায়ক এবং তার ভাইয়ের বেআইনি টাকা। কারণ তারাই এই স্কুলে রাজত্ব চালাতেন। তারাই তাদের বেআইনি টাকা এখানে জমা করেছিলেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন