রাজ্যসভাতে আবারও ভাঙন তৃণমূলে। এবার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেবার পাশাপাশি তৃণমূল ছাড়লেন সুস্মিতা দেব। আসামের রাজনীতিক এবং প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা সন্তোষ মোহন দেবের মেয়ে সুস্মিতা ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে শিলচর কেন্দ্র থেকে পরাজিত হবার পর ২০২১ সালে তৃণমূলে যোগ দেন এবং তৃণমূল তাঁকে পরবর্তী সময়ে রাজ্যসভার সাংসদ করে।
বুধবার সাংসদ পদ এবং তৃণমূল ছাড়ার পরেই সুস্মিতা দেব দেখা করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই সাক্ষাৎকারের ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল। যে সাক্ষাৎকার রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে তিনি শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দেবেন।
বুধবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণানকে লেখা এক চিঠিতে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেবার কথা জানিয়েছেন। ওই চিঠিতেই তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন অবিলম্বে তাঁর সিদ্ধান্ত কার্যকরী করার জন্য।
তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ের পর এই নিয়ে তৃণমূলের দ্বিতীয় রাজ্যসভা সাংসদ ইস্তফা দিলেন। এর আগে সুখেন্দু শেখর রায়ও সাংসদ পদে ইস্তফা দেবার পাশাপাশি তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। জানা যাচ্ছে, তিনি দিন কয়েকের মধ্যেই বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন এবং তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠাতে তৎপর হয়েছে বিজেপি।
নিজের ইস্তফাপত্রে ৭৭ বছর বয়সী তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় তৃণমূলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে লিখেছিলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে সর্বত্র বেলাগাম দুর্নীতি হয়েছে। দলের অন্দরে দুর্নীতি এবং দল নিয়ে মানুষের ক্ষোভ মাত্রা ছাড়িয়েছিল। তাই পতন অনিবার্য ছিল। দলের মধ্যেই সৎ নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। প্রসঙ্গত, গতকাল রাতে নিজের ফেসবুক পেজে একটি প্যাঁচার ছবি পোষ্ট করে তিনি লিখেছিলেন, “সাবধান, কিছু একটা ঘটতে চলেছে।”
রাজ্য বিধানসভার পরিষদীয় দল হাতছাড়া হবার পর ইতিমধ্যেই লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলও ভেঙে গেছে। তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ইতিমধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদরা কাকলী ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহ করেছেন। তাদের গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে এনডিএ ব্লকে সামিল হবার আবেদন জানানো হয়েছে। লোকসভার পর এবার রাজ্যসভাতেও তৃণমূলের ভাঙন চলছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন