অযোগ্যদের চাকরি বাঁচানোর সিদ্ধান্ত কার? - বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নিশানায় রাজ্যের শিক্ষাসচিব

আমি এটা ভেবেই অবাক হচ্ছি, কোনও রাজ্যের মন্ত্রীসভা কীভাবে বেআইনিভাবে নিয়োগ প্রাপ্তদের চাকরি রক্ষা করতে পারে? - বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়
বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়
বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়গ্রাফিক্স - নিজস্ব

ফের বিচারকের ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য সরকার। বেআইনিভাবে যাদের চাকরিতে নিয়োগ করা হয়েছে, তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত না করার সিদ্ধান্ত কার? - শুক্রবার উচ্চ আদালতে সরাসরি রাজ্যের শিক্ষাসচিব মণীশ জৈনকে প্রশ্ন করলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি ছিল। আদালত সূত্রের খবর, শুনানি চলাকালীন মনীশ জৈনকে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, অবৈধ উপায়ে চাকরিপ্রাপকদের চাকরি যাবে না এবং নতুন করে শূন্যপদ পূরণ করা হবে, এ কথা কে বলেছিলেন? এই কাজ করার জন্য কি কোনও আইনি পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল?

উত্তরে মনীশ বাবু জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কথা শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, অবৈধদের চাকরি বাঁচানোর জন্য মন্ত্রীসভা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই রিপোর্ট দেখান। আপনার কি মনে হয়, অবৈধদের চাকরি বাঁচানোর জন্য কোনও মন্ত্রীসভা এরূপ বৈঠক করতে পারে? একটা রাজ্যের শাসন নীতি এরকম হতে পারে?

বিচারপতি আরও জানান - আমি এটা ভেবেই অবাক হচ্ছি, কোনও রাজ্যের মন্ত্রীসভা কীভাবে বেআইনিভাবে নিয়োগ প্রাপ্তদের চাকরি রক্ষা করতে পারে? এমনকি এই বিষয়ে সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে! মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত কি ভারতীয় সংবিধানের পরিপন্থী নয়? বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধুমাত্র রাজ্য নয়, গোটা দেশের জন্য এই সিদ্ধান্ত বিপজ্জনক। গণতান্ত্রিক পদ্ধতি যদি সঠিক ব্যক্তির হাতে না যায়, তবে তার উন্নতি কোনওভাবেই সম্ভব নয়।

যদিও, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রশ্নের সদুত্তর মনীশ জৈন দিতে পারেনি বলেই জানা গেছে। পাশাপাশি আদালত জানিয়েছে, রাজ্যের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের নোট হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে সুরক্ষিত থাকবে।

অন্যদিকে, শুক্রবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের উপর তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি, প্রধান বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী আপাতত মনীশ জৈনকে সশরীরে আদালতে হাজিরা দিতে হবে না।

প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কাদের নির্দেশে অবৈধভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছিল অযোগ্যদের, তার তদন্তভার সিবিআই-কে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছিল রাজ্য। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপরই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার।

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়
DA-র দাবিতে ফের উত্তাল রাজপথ! ধৃত সরকারী কর্মীদের মুক্তির দাবিতে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে বামপন্থী সংগঠন
বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়
কথায় কথায় আদালতে যাচ্ছে, তাই নিয়োগ করা যাচ্ছে না - বিধানসভা অধিবেশন থেকে বিরোধীদের তোপ মমতার

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in