West Bengal: গুন্ডাদমন বিলে এখনও স্বাক্ষর করেননি রাষ্ট্রপতি, চালুই হয়নি আইন; আদালতে জানালো রাজ্য

People's Reporter: বৃহস্পতিবার রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে জানিয়েছেন, রাজ্য বিধানসভায় এই পাশ হলেও এই আইন এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়নি।
কলকাতা হাইকোর্ট
কলকাতা হাইকোর্টছবি - সংগৃহীত
Published on

রাজ্যের গুন্ডাদমন বিলে এখনও পর্যন্ত স্বাক্ষর করেননি রাষ্ট্রপতি। তাই ওই বিল এখনও আইনে পরিণত হয়নি। যে আইন নেই সেই আইনের বিরোধিতা করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা যাবে না। বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিতর্কিত ‘গুন্ডাদমন আইন’ প্রসঙ্গে করা এক জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে একথা জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে জানিয়েছেন, রাজ্য বিধানসভায় এই পাশ হলেও এই আইন এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়নি।

বৃহস্পতিবার আদালতে এই সংক্রান্ত শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, গুন্ডাদমন আইন (West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Act, 2026) সংক্রান্ত বিলে এখনও স্বাক্ষর করেননি রাষ্ট্রপতি। ফলে সেই বিল আইনে রূপান্তরিত হয়নি। তাই এই আইনের বিরোধিতায় মামলা করা যাবে না। আইন হিসেবে চালু হলে পরবর্তী সময়ে এই বিষয়ে আলোচনা চলতে পারে।

গুন্ডা দমন আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন সিপিআইএম নেতা তথা আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। এই আইন কার্যকর হলে সন্দেহের ভিত্তিতে যে কোনও কাউকে গ্রেফতার করার ক্ষমতা থাকবে পুলিশের। এই আইনের অবিলম্বে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন জানানো হয়। এই আবেদনের ভিত্তিতেই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছিলেন হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী।

বৃহস্পতিবার শুনানির পর আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী শামিম আহমেদ বলেন, ‘রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল এবং ডেপুটি অ্যাডভোকেট জেনারেল দুজনেই হাইকোর্টে স্বীকার করেছেন যে এই আইন এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়নি। তাই মামলা খারিজ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে একথা জানানোর পর আদালত জানিয়েছে আইন স্বীকৃতি পেলে এই আইন নিয়ে ফের মামলা করা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানতে চেয়েছিলাম কোনটা ঠিক? মুখ্যমন্ত্রী যা বলছেন? নাকি যেটা বাস্তব? আজ আদালতে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যা বলছেন। যে আইন এখনও কোন স্বীকৃতি পায়নি সেই আইনে তিনি কী ভাবে ব্যবস্থা নেবেন।’

এদিনের রায়ের পর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় তাঁর ফেসবুক পোষ্টে লিখেছেন, “বিধানসভায় মিথ্যে বলে আইন বানানো যায়না। গুন্ডা দমন আইন এখনো আইনই নয়। হাইকোর্টে বললেন রাজ্য সরকার। APDR ও AILU এর করা মামলায়।”

অন্যদিকে আদালতের রায়ের পর গুন্ডাদমন আইনের বিষয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের মমতাপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এই আইনকে রাওলাট আইনের সঙ্গে তুলনা করে অবিলম্বে এই আইন বাতিল করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রাজ্য সরকার বিধানসভায় জানিয়েছিল একটা মিছিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের গুন্ডাদমন আইনে ধরা হবে। কিন্তু যে আইন এখনও চালুই হয়নি সেই আইনে ধরার কথা বলে কেন হাউসকে মিসলিড করা হল?

গুন্ডাদমন আইন প্রসঙ্গে কী জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

গত ১৩ জুলাই এই আইন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, অতীতে রাজ্যে কমিউনিস্ট আমলের ‘হার্মাদ’ এবং পরবর্তী সময়ে তৃণমূল আমলের ‘গুন্ডাদের’ দৌরাত্ম্য সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করেছে। তাঁর মতে, সেই ধরনের সংগঠিত অপরাধ ও দাপটের রাজনীতি রুখতেই নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন আইনে কী কী আছে?

নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রতিরোধমূলক আটক। প্রশাসনের কাছে যদি বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকে যে কোনও ব্যক্তি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারেন বা গুরুতর সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছেন, তবে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তাঁকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত আটক রাখা যেতে পারে। এই বিধানকে কেন্দ্রীয় জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ)-এর সঙ্গে তুলনা করছেন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

আইনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হল ‘এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার’ বা এলাকাছাড়া করার ক্ষমতা। জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার কিংবা ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকরা যদি মনে করেন কোনও দাগী অপরাধীর উপস্থিতি নির্দিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে, তাহলে তাঁকে ওই এলাকা বা পুরো জেলা থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া যাবে। এই মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত হতে পারে।

কলকাতা হাইকোর্ট
WB: ‘গুন্ডাদমন আইন’ কার্যকর, বিরোধী আমলের ‘হার্মাদ’ ‘গুন্ডা’ দমনের জন্য এই আইন জরুরি - মুখ্যমন্ত্রী
কলকাতা হাইকোর্ট
West Bengal: ঋতব্রত শিবিরের প্রত্যাখ্যান! লটারি কান্ডে ধরপাকড় শুরু হতেই ফের গা ঢাকা নির্মল ঘোষের?
কলকাতা হাইকোর্ট
NEET Paper Leak: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই কলকাতা মিছিল কান্ডে ধৃত ১৬ জনের জামিন

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in