West Bengal: মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়ে সাক্ষাৎ - রাতেই গ্রেপ্তার তামান্না কান্ডের দুই অভিযুক্ত

People's Reporter: মঙ্গলবার CPIM বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সহ সিপিআইএম নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে এইসব ঘটনার তদন্তের দাবি জানান।
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় নিজস্ব চিত্র
Published on

বিধানসভায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরেই নড়েচড়ে বসলো প্রশাসন। গতকাল রাত থেকে এখন পর্যন্ত কালীগঞ্জের তামান্না কান্ডে আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম সাবির শেখ এবং জিয়ারুল শেখ। মঙ্গলবার সন্ধ্যেয় সিপিআইএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সহ সিপিআইএম নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে এইসব ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন, দেবু দাস ও ঊষা দাসের পুত্র দীপঙ্কর দাস এবং নিহত আনিস খানের বাবা।

উল্লেখযোগ্যভাবে গতকালই বিধানসভায় তামান্নার খুনের বিষয় উল্লেখ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেসময়েই তিনি জানান, তামান্নার পরিবারও বিচার পাবে। পাশাপাশি রামপুরহাট, হাঁসখালি, কসবা ল কলেজ, কামদুনি, ধূপগুড়ির ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।

২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগের দিন কাকদ্বীপে খুন হন সক্রিয় সিপিআইএম কর্মী দেবু দাস ও ঊষা দাস। কাকদ্বীপের বুদাখালি গ্রামের এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিযোগ ছিল, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা রাতের অন্ধকারে দেবু দাস ও ঊষা দাসের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে তাদের পুড়িয়ে হত্যা করে। সেইসময়েই স্থানীয় থানায় এলাকার একাধিক তৃণমূল নেতা কর্মীর নামে অভিযোগ দায়ের করে নিহত পরিবারের সন্তান দীপঙ্কর দাস। পরবর্তীকালে এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিট গঠিত হলেও কোনও অভিযুক্তই সেই সময় গ্রেপ্তার হয়নি। মৃত বাবা মায়ের দেহ পেতেও আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল ছেলে দীপঙ্কর দাসকে।

২০২৫ সালে নদীয়ার কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বিজয় মিছিল থেকে ছোঁড়া বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় তামান্নার। তৃণমূলের ওই বিজয় মিছিল থেকে সিপিআইএম সমর্থক সাবিনা ইয়াসমিনদের বাড়িতে বোমা ছোঁড়া হয়। অভিযুক্তদের নাম দিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও দীর্ঘদিন তারা জেলের বাইরেই ছিলেন।

২০২২-এর ১৯ ফেব্রুয়ারি নিজের বাড়িতেই নিহত হন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আনিশ খান। ওইদিন গভীর রাতে পুলিশ পরিচয়ে আসা চারজন আনিসকে তাঁরই বাড়ির তিনতলা থেকে ফেলে খুন করেছে, এমন অভিযোগ ওঠে আমতার সারদা গ্রামে। ছাত্র আন্দোলনে যথেষ্ট পরিচিত নাম আনিস খানের মৃত্যুতে খুনের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠে। নাম জড়ায় তৃণমূলের। আনিস খানের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, যেহেতু আনিস খান বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ করতেন, বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হতেন, তাই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়
Bye-Election: প্রাণঘাতী বিজয়োল্লাস! কালীগঞ্জে বোমাবাজীর বলি নাবালিকা, অভিযোগ তৃণমূলের দিকে
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়
Anis Khan Case: আনিস কাণ্ডে ফের পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, আপাতত রায়দান স্থগিত রাখল হাইকোর্ট

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in