

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) সামনে রেখে প্রার্থী তালিকা প্রকাশে নতুন মোড় আনল বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। বুধবার বিজেপির পক্ষ থেকে আরও ১৯টি আসনে যে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে বিতর্ক শুরু হয়েছে তা নিয়েই। এই তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম পানিহাটি কেন্দ্রকে ঘিরে।
পানিহাটি কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে তুলে আনা হয়েছে বহুল আলোচিত আরজি কর কান্ডে হত নির্যাতিতা 'অভয়া'র মাকে। দীর্ঘদিন ধরে যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে জল্পনা চলছিল, তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ পেল। এই কেন্দ্র থেকে সিপিআইএম প্রার্থী অভয়া আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ কলতান দাশগুপ্ত। তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই কেন্দ্রের দীর্ঘ পাঁচ বারের বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। প্রসঙ্গত, অভয়া-র ঘটনায় তড়িঘড়ি তাঁর মরদেহ পুড়িয়ে দেবার অভিযোগ উঠেছিল এই নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধেই।
অভয়া-র মাকে প্রার্থী করার বিজেপির সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল (All India Trinamool Congress)। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, নির্যাতিতার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা থাকলেও বিজেপির এই পদক্ষেপ দ্বিচারিতার ইঙ্গিত দেয়। তাঁর দাবি, ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছিল এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে সিবিআই (Central Bureau of Investigation) তদন্তে নামে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের পদক্ষেপই সঠিক ছিল বলে উঠে আসে।
কুণাল ঘোষ আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে সেই সংস্থাকেই নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করছে। তিনি এ-ও বলেন, নির্যাতিতার পরিবার যখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল, তখন তাদের উপেক্ষা করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, নির্যাতিতার মা নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। তাঁর বক্তব্য, মেয়ের ন্যায়বিচারের লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতেই রাজনীতিতে আসা। কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা এবং রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তিনি এই পথে হাঁটছেন। তাঁর মতে, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হতে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন।
তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে Seema Pahuja-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তাঁর অভিযোগ, তদন্তের গতি সন্তোষজনক নয়, যার ফলে বিচার পেতে দেরি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই প্রার্থী ঘোষণা শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক এবং আবেগের সঞ্চার করেছে। এখন দেখার, ভোটের ময়দানে এই সমীকরণ কতটা প্রভাব ফেলে।
এর আগে 'অভয়া'র মায়ের প্রার্থীপদ নিয়ে সরব হয়েছিলেন চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, 'অভয়ার মা-বাবা যা সিদ্ধান্ত নেবেন আমি তাঁর পাশে আছি। এখন রাজ্যে একটাই স্বর, পরিবর্তন চাই। সেজন্য অভয়ার মা-বাবা যদি ভোটে দাঁড়ান, তাহলে তাঁকে জেতানোর দায়িত্ব পানিহাটিবাসীর।' সিপিআইএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, প্রার্থী হতেই হবে, এমন তো কথা নেই। মানুষের কাজ প্রার্থী না হয়েও করা যায়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন