

“এই ঋতব্রত তৃণমূল কি দুর্নীতির সাজা থেকে বাঁচবার একটা বিমা সংস্থা? অ্যাডমিশন ফি কত?” নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে চাঞ্চল্যকর এই পোষ্ট করলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার। বুধবার কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে যোগদানের পরেই এই পোষ্ট করেছেন তিনি। রাজ্য রাজনীতিতে সাম্প্রতিক শিবির বদল নিয়ে তাঁর তোলা এই গুরুতর প্রশ্নে সহমত পোষণ করেছেন অধিকাংশ নেটনাগরিক।
নিজের ফেসবুক পেজ থেকে করা ওই পোষ্টে রীতিমত ক্ষোভের সুরে তিনি জানিয়েছেন, ভোটারদের রায় কি একটা ফুটবল নাকি, যে যখন তখন লাথি মারা যায়? আর আমরা কি শেষ পর্যন্ত ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের সেই বস্তু, যাকে চোরে চোরে মাস্তুত ভাইয়েরা যেদিকে ইচ্ছে লাথি মেরে উড়িয়ে দিতে পারে?”
গতকালের পোষ্টে জহর সরকার বলেন, “ছি ছি! হচ্ছেটা কী! যে মুহূর্তে মদন মিত্রকে ইডি সমন করল, তাঁর নিজের ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিপুল অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ দেখিয়ে — সেই মুহূর্তে মদন মমতার আজীবন সংঘ ছেড়ে সোজা ঋতব্রতর তৃণমূলে যোগ দিলেন। ইতিমধ্যে কালীঘাট তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি৷”
এখানেই না থেমে নিজের পোষ্ট থেকে এরপর সরাসরি চারটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন প্রসার ভারতীর প্রাক্তন সিইও। তিনি বলেন, “আমাদের প্রশ্ন হল - (১) বাংলার মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট ভোট দিয়েছে — অতএব দুর্নীতিগ্রস্তদের আইনের ধারা অনুযায়ী চার্জশিট না দিয়ে এই রফা করা হচ্ছে কেন? (২) ইডি তো এক 'স্বাধীন' তদন্তকারী সংস্থা — তারা কি অপরাধ নিয়ে অবারিত রাজনৈতিক খেলা খেলতে পারে? আইন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার ক্ষমতা তাদের কে দিয়েছে? (৩) যখন ইডি-প্রভু কেন্দ্রীয় সরকার এত নির্লজ্জ ভাবে তাদের ব্যবহার করেই চলেছে, একটার পর একটা কেসে, আদালত কি একবার হস্তক্ষেপ করে হতভাগা দেশটিকে আইনের শাসন কাকে বলে, তা বুঝিয়ে দিতে পারে না? (৪) এই ঋতব্রত তৃণমূল কি দুর্নীতির সাজা থেকে বাঁচবার একটা বিমা সংস্থা? অ্যাডমিশন ফি কত? কিছুই বুঝতে পারছি না।”
প্রসঙ্গত, পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে গত ১৩ জুন সকাল থেকেই কলকাতা ও কলকাতা সংলগ্ন বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate - ED)। এই তালিকাতে ছিল কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক বাড়িও। মোট ৮টি জায়গায় অভিযান চালানো হয়। যার মধ্যে মদন মিত্রের দক্ষিণেশ্বর, কামারহাটি, জোকা এবং ভবানীপুরের বাড়ি ছিল।
এরপর গত পরশু ইডি-র পক্ষ থেকে নিয়োগ দুর্নীতি কান্ডে তলব করা হয় কামারহাটির তৃণমূল বিধায়কের দুই ছেলে এবং স্ত্রীকে। ইডি-র এই তলবের পরেই ১৫ জুন সকালে তৃণমূল ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাড়িতে যান মদন মিত্র এবং এদিনই বিকেলে সরাসরি বিধানসভায় গিয়ে তৃণমূলের ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেন। ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেবার পর মদন মিত্র জানান, তিনি তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন।
শেষ বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছেন মদন মিত্র। তৃণমূলের দল ভাঙাভাঙির পর ১৪ জুলাই পর্যন্তও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরেই ছিলেন।
২০২১ সালের ২ আগস্ট তৃণমূলের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভা সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন জহর সরকার। যদিও আরজি কর কান্ডের পর প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি তৃণমূল এবং রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা দীর্ঘ এক চিঠিতে তিনি জানিয়েছিলেন, “এই আন্দোলনে পথে নামা মানুষেরা অরাজনৈতিক এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ করছেন। অতএব রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে এই আন্দোলনকে প্রতিরোধ করা সমীচীন হবেনা।” প্রসঙ্গত, এই ঘটনার আগে আরজি কর আন্দোলনকে বাম-বিজেপির আন্দোলন বলে তকমা দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই দাবিকেই নস্যাৎ করে দল এবং পদ থেকে ইস্তফা দেন জহর সরকার।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন