

● পুর নিয়োগ দুর্নীতি তদন্তে সকাল থেকে তল্লাশি অভিযানে ইডি।
● তল্লাশি অভিযান চলছে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক বাড়িতেও।
● সূত্র অনুসারে আগেই গ্রেপ্তার হওয়া অয়ন শীলের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি অভিযান।
পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে শনিবার সকাল থেকেই কলকাতা ও কলকাতা সংলগ্ন বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate - ED))। এই তালিকাতে আছে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক বাড়িও। জানা যাচ্ছে মোট ৮টি জায়গায় অভিযান চলছে। যার মধ্যে আছে মদন মিত্রের দক্ষিণেশ্বর, কামারহাটি, জোকা এবং ভবানীপুরের বাড়ি। শেষ বিধানসভা নির্বাচনে কামারহাটি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছেন মদন মিত্র। তৃণমূলের দল ভাঙাভাঙির পর এখনও পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরেই আছেন তিনি।
শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ইডি আধিকারিকরা বিভিন্ন জায়গায় হানা দেয়। মূলত পুর নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়েই এই তল্লাশি বলে জানা গেছে। এর আগে অয়ন শীল নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান বলেও জানা গেছে। মদন মিত্রের একাধিক বাড়ি ছাড়াও তল্লাশি চলছে বেলেঘাটা, বেহালা, সন্তোষপুর প্রভৃতি জায়গায়।
পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালের মার্চ মাসে গ্রেপ্তার হন অয়ন শীল। তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে আছে কামারহাটি পুরসভাও। ঘটনাচক্রে গতকালই ইস্তফা দিয়েছেন তৃণমূল পরিচালিত কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা। এরপর শনিবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। এর আগে কামারহাটি পুরসভার একাধিক আধিকারিকের বাড়িতেও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। সূত্র অনুসারে, অয়ন শীলের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
২০২৩ সালের মার্চ মাসে অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশির সময় একাধিক নথি উদ্ধার করে ইডি আধিকারিকরা। অয়ন শীলের অফিসে ৩৭ ঘন্টা তল্লাশি চালিয়ে পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক নথি উদ্ধার হয়। নথি থেকে জানা যায়, পুরসভায় বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য ধার্য করা ছিল নির্দিষ্ট রেট।
জানা গেছিল রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় প্রায় ৫ হাজার কর্মী নিয়োগ করেছিলেন অয়ন শীল। পুরসভার সাফাই কর্মী, গাড়ির চালক পদের জন্য নেওয়া হতো ৪ লক্ষ টাকা। গ্রুপ সি, টাইপিস্টের জন্য পরীক্ষার্থী পিছু নিতেন ৭ লক্ষ টাকা। এই সবগুলি হল ন্যূনতম মূল্য। প্রার্থীর আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে রেট বাড়ানো হতো। ইডির দাবি, ২০১৪-১৫ সাল নাগাদ এই চাকরি বিক্রির কারবার শুরু করেছিলেন অয়ন শীল।
ইডি সূত্রে আরও জানা গেছিল, উত্তর ও দক্ষিণ দমদম, হালিশহর, কামারহাটি, পানিহাটি, বরাহনগর সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভাতে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে অয়ন শীলের সংস্থা। এই সংস্থা কলেজ স্ট্রিটের একটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে OMR শিট ছাপাতো। ওই সময় অয়ন শীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক এজেন্টের নাম জানতে পেরেছিল ইডি আধিকারিকরা। যাঁদের মাধ্যমে দুর্নীতি সংগঠিত করতেন অয়ন শীল।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন