

● আগেই ভেঙেছিল তৃণমূলের সংসদীয় দল। এবার বিদ্রোহী শিবিরে দেখা গেল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
● শনিবার তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়ের গাড়িতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ি গেলেন উত্তর কলকাতার সাংসদ।
● আগামী সোমবার তৃণমূলের সংসদীয় দলের ভাঙন সম্পূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ক’দিন ধরেই জল্পনা ছিল। এবার সেই জল্পনা সত্যি করে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে কয়েকদিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্মতলার ধর্নায় যোগ দিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই হিসেবে এখনও পর্যন্ত তাঁকে এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে আছেন বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছিল। যদিও এদিনই দিল্লিতে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়ের সঙ্গে একই গাড়িতে দেখা গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী উত্তর কলকাতার সাংসদকে। যার পরে তাঁর শিবির বদল নিয়ে রাজনৈতিক গুঞ্জন আরও বেড়েছে।
জানা যাচ্ছে, শনিবার দিল্লি পৌঁছে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়ের গাড়িতে করেই বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ি যান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের কয়েকজন বৈঠকে বসেছেন। এর আগেও তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করার পর ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ি গেছিলেন এবং সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যে পালাবদলের পরেই একটানা ভাঙন চলছে তৃণমূলে। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের পরেই তৃণমূলের পরিষদীয় দল ভেঙে দু’টুকরো হয়ে যায়। বিদ্রোহী বিধায়করা বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করেন।
এরপরেই ভাঙন ধরে সাংসদ দলেও। লোকসভার প্রায় ২০ জন সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বে শিবির বদলের কথা ঘোষণা করেন। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার দাবি করেন, তাদের সঙ্গে ২০ জন সাংসদ আছেন এবং তাঁরা এনডিএ শিবিরে যোগ দিতে চান। যদিও এখনও পর্যন্ত যে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে তাতে ১৯ জন তৃণমূল সাংসদের সই দেখা গেছে। সেখানে স্বাক্ষর ছিল না সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
অন্যদিকে রাজ্যসভা থেকেই একে একে তৃণমূল সাংসদরা ইস্তফা দিতে শুরু করেন। এখনও পর্যন্ত সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক এবং কোয়েল মল্লিক পদত্যাগ করেছেন। যার ফলে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদের সংখ্যা বর্তমানে ১৩ থেকে কমে ৯ হয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে আগামী সোমবারের মধ্যে রাজ্যসভার আরও কয়েকজন সাংসদ ইস্তফা দেবেন এবং লোকসভারও কয়েকজন সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেবেন। যে তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ নাম অবশ্যই শত্রুঘ্ন সিনহার। যে নাম নিয়ে এই মুহূর্তে জোর গুঞ্জন চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যসভা থেকে ৪ তৃণমূল সাংসদের ইস্তফার পর যে সাংসদরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে তাদের মধ্যে আছেন ডেরেক ও ব্রায়েন, দোলা সেন, বাবুল সুপ্রিয়, সাগরিকা ঘোষ, মেনকা গুরুস্বামী, নাদিমুল হক, মমতা বালা ঠাকুর, রাজীব কুমার ও সামিরুল ইসলাম। এঁদের মধ্যে বাবুল সুপ্রিয়, মেনকা গুরুস্বামী, রাজীব কুমারের মেয়াদ শেষ হবার কথা ২ এপ্রিল ২০৩২ সালে। নাদিমুল হক, মমতা বালা ঠাকুর এবং সাগরিকা ঘোষের ২ এপ্রিল ২০৩০ সালে। ডেরেক ও ব্রায়েন, দোলা সেন এবং সামিরুল ইসলামের মেয়াদ শেষ হবে ১৮ আগস্ট ২০২৯ সালে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন