

রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হতে চলেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা যাচ্ছে ৫৮ জন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত। বিদ্রোহী শিবিরের মুখ্য সচেতক হতে চলেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী আখতারুজ্জামান। অর্থাৎ ভেঙে গেল তৃণমূল। এবার আগামী দিনে দলের নাম এবং প্রতীক কাদের কাছে থাকবে প্রশ্ন তা নিয়েই।
তৃণমূলের অন্দরে সই কান্ডের অস্বস্তির মাঝেই এবার বিধানসভায় সরাসরি বিদ্রোহী বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে পৌঁছে গেলেন বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্র অনুসারে, তাঁর কাছে কমপক্ষে ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়কের স্বাক্ষর আছে। যার ভিত্তিতে বিরোধী দলনেতার পদ দাবি করতে চলেছেন ঋতব্রত। বিধানসভার স্পিকার যদি বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের দাবি মেনে নেন সেক্ষেত্রে বিদ্রোহী গোষ্ঠীই বিধানসভায় তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে যাবে। অর্থাৎ আজই সরকারি ভাবে ভেঙে যাচ্ছে তৃণমূল। এদিন বিদ্রোহী বিধায়কদের পক্ষ থেকে ৫৮ জন বৈঠকে অংশ নেন।
ইতিমধ্যেই অধ্যক্ষের ঘরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে পৌঁছে গেছেন বিদ্রোহী বিধায়করা। সেখানে বিদ্রোহী বিধায়কদের স্বাক্ষর জমা দিয়ে বিধানসভার অন্দরে বিরোধী দলনেতার আসন দাবী করা হবে। এর আগেই এদিন সকালে বিধানসভায় বৈঠকে মিলিত হন বিদ্রোহী বিধায়করা। সূত্র অনুসারে, সেখানেই চূড়ান্ত হয়েছে বিরোধী দলনেতা, মুখ্য সচেতকের নাম। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ‘তারাই প্রকৃত তৃণমূল’ বলে দাবি জানানো হবে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে দাবি করা হচ্ছে, গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় শহর কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে গোপন বৈঠক করেছেন ঋতব্রত সহ বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়করা। জানা যাচ্ছে, বুধবার সকালেই ৫৯ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় পৌঁছেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বিধানসভায় তিনি ছাড়াও আছে বহিষ্কৃত ওপর তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা। আছেন অরূপ রায়, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, চন্দ্রনাথ সিংহ প্রমুখেরা।
বর্তমানে বিধানসভায় দুই তৃণমূল বিধায়ক বহিষ্কৃত হবার পর তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৭৮। সেই হিসেবে দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে বিদ্রোহীদের প্রয়োজন ৫২ জন বিধায়কের সমর্থন। যা তাঁদের কাছে আছে বলেই দাবি করেছেন সন্দীপন সাহা। জানা যাচ্ছে, বর্তমানে বিধানসভাতেই বিরোধী দলনেতার নাম চূড়ান্ত করতে বৈঠক করেছেন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়করা। যে বৈঠক থেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উঠে আসার সম্ভাবনাই প্রবল।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন