

তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরে আরও জোর ধাক্কা। দল তিন টুকরো হয়ে যাবার পর এবার দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও কার্যত হাতছাড়া হতে চলেছে তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের এক অংশের আবেদনের ভিত্তিতে এদিনই ফ্রিজ করে দেওয়া তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। আপাতত এই তিন অ্যাকাউন্ট থেকে আর কোনও লেনদেন করা যাবেনা। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল কালীঘাট শিবিরের বিধায়ক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
গতকালই জানা গেছিল তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। যদিও দল তাঁকে গত ৫ জুন পদ থেকে সরিয়ে দেয়, কিন্তু তখনও পর্যন্ত তিনিই ব্যাঙ্কে অথোরাইজ সিগনেটরি ছিলেন। পরবর্তীতে দল যাকে দায়িত্ব দিয়েছিল সেই শুভাশিষ চক্রবর্তীর নাম এখনও পর্যন্ত অথোরাইজড সিগনেটরি হিসেবে ব্যাঙ্কে নথিভুক্ত হয়নি।
তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের এই চিঠির কথা প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা তথা বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সেই বক্তব্যকে সমর্থক করেন। তিনি বলেন, আমি অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে সহমত। ওই ব্যাঙ্কে কাটমানির টাকা আছে কিনা কে জানে। তার তদন্ত হওয়া দরকার। এরপরেই তৃণমূল বিধায়কদের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর পক্ষে কয়েকজন বিধায়ক অবিলম্বে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আর্জি জানান। এরপর আজ শুক্রবার ১৯ জুন ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে মোট ৪৪০ কোটি টাকা আছে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক তথা দলীয় মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, বিষয়টা আমাদের জানা। আমরা সম্পূর্ণ ঘটনার ওপর নজর রাখছি। আদালতে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে। জানা যাচ্ছে, এই তিন অ্যাকাউন্ট ছাড়াও তৃণমূলের আরও কোথায় কোথায় অ্যাকাউন্ট আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাওয়া তৃণমূলের কাছে বেশ বড়ো ধাক্কা সন্দেহ নেই। এমনিতেই রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত হবার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। বর্তমানে তৃণমূল তিন টুকরো হয়ে গেছে। এই তিনভাগের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এখনও যারা টিকে আছেন তাদের সংখ্যাও নিতান্তই কম। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভাঙন ধরেছে তৃণমূলের বিধায়ক দলে। অন্যদিকে কাকলী ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বে ভাঙন ধরে গেছে লোকসভার সংসদীয় দলে। রাজ্যসভা থেকেও পদত্যাগ করেছেন চার সাংসদ। দলের এই পরিস্থিতিতে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় দল চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগাড় নিয়েও এবার ভাবতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন