TMC: হাইকোর্টে ধাক্কা খেল মমতাপন্থী তৃণমূল, বিরোধী দলনেতা পদে আপাতত বহাল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়

People's Reporter: সন্দীপন সাহা জানান, ''যে লড়াইটা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আমি, আমরা শুরু করেছিলাম অনিয়মের বিরুদ্ধে, আজ তার নৈতিক জয় পেলাম। বিধায়কদের সমর্থনের সংখ্যা বাড়ছে।''
মমতা ব্যানার্জি এবং ঋতব্রত ব্যানার্জি
মমতা ব্যানার্জি এবং ঋতব্রত ব্যানার্জিফাইল ছবি
Published on

বিরোধী দলনেতা সংক্রান্ত মামলায় কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে। অর্থাৎ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই থাকছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদে। আগামী ২৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানিয়েছেন, আগামী ২৮ জুলাই পরবর্তী শুনানিতে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে হবে।

এ বারের বিধানসভা ব্যাপক ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। মাত্র ৮০টি আসনে জয় পেয়েছে তারা। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তারা। কিন্তু বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে দলে ভাঙন দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে দলের চেয়ারপার্সন হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করেছিলেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের সমর্থন নিয়ে স্পিকারের দ্বারস্থ হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন তাঁকেই বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করেন স্পিকার। যদিও তার আগেই দলবিরোধী কাজের জন্য তাঁকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এমতাবস্থায় কীভাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় তৃণমূলের দলনেতা হন, সেই প্রশ্ন তুলে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। শুনানিতে স্পিকারের আইনজীবী বলেন, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করা সংক্রান্ত চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে কয়েক জন দলীয় বিধায়কের সই ছিল। তবে দ্বিতীয় চিঠিটি দেওয়ার সময় ৫৮ জন বিধায়ক সশরীরে স্পিকারের সামনে হাজির ছিলেন এবং ঋতব্রতের প্রতি সমর্থনের কথা জানান। এ ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত মেনে তাঁকেই বিরোধী দলনেতা করা হয়েছে।

অন্যদিকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা রাজনৈতিক দল ঠিক করে। বিধায়ক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সেখানে বিবেচ্য হতে পারে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় -সহ দলীয় নেতৃত্ব শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা মনোনীত করেছিলেন। স্পিকারের উচিত, সেই সিদ্ধান্তকেই কার্যকর করা। কিছু বিধায়ক আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করে দলের সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারেন না।

বুধবার সব পক্ষের কথা শোনার পর রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারপতি। বৃহস্পতিবার আদালত জানিয়েছে, এই নির্দেশের উপর কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে না।

হাইকোর্টের এই রায়ের পর ডেপুটি লিডার সন্দীপন সাহা জানান, ''নৈতিক জয়। যে লড়াইটা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আমি, আমরা শুরু করেছিলাম অনিয়মের বিরুদ্ধে, আজ তার নৈতিক জয় পেলাম। আমরা যে কাজটি করেছি সেটা সম্পূর্ণ আইন মেনে করা। বিধায়কদের সমর্থনের সংখ্যা বাড়ছে। এবং যারা যারা আমাদের সমর্থন করছেন, চিঠি দিচ্ছেন, আমরা মাননীয় স্পিকারকে দিচ্ছি সেই চিঠি। যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা এই ব্লকটাকে তৈরি করছি, আমরা সেটাকে নিয়ে এগিয়ে যাবো।''

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in