

এক বাংলা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। শনিবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে এই ঘটনার কোনও ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। ওই প্রতিবেদনে এক রাজনৈতিক বিষয়ে সৌরভ গাঙ্গুলী মধ্যস্থতা করেছিলেন বলে দাবি করা হয়। যদিও বিসিসিআই-এর প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী স্পষ্টভাবে এদিন জানিয়েছেন, তিনি কখনও কোনও রাজনৈতিক বিষয়ে জড়িত ছিলেন না এবং এই ধরণের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সত্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।
যে প্রতিবেদনের উল্লেখ সৌরভ গাঙ্গুলি করেছেন তা ছিল বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে নিয়ে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহরমপুর কেন্দ্র থেকে লোকসভায় যেতে ইচ্ছুক। যে কারণে তিনি চেয়েছিলেন ওই কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান পদত্যাগ করুক এবং তিনি উপনির্বাচনের মাধ্যমে ওই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদে যেতে চান। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌরভ গাঙ্গুলীর মাধ্যমে এই বিষয়ে ইউসুফ পাঠানকে রাজি করানোর জন্য বলা হয়। ওই প্রতিবেদন অনুসারে, ইউসুফ পাঠান এই প্রস্তাব মেনে নেননি।
এই ঘটনা প্রসঙ্গেই শনিবার এক দীর্ঘ বার্তায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলী। বিবৃতিতে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ওই প্রতিবেদনে আমার সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা সত্যের প্রতি চরম অবহেলা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে ইউসুফ পাঠানকে কোনও বার্তা দিতে বলেননি। এর পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, আমি কখনও ইউসুফ পাঠানের কাছে যাইনি বা তাঁর সাথে যোগাযোগ করিনি। সুতরাং প্রতিবেদনে যেভাবে ঘটনাটি পরিবেশিত হয়েছে তার প্রশ্নও ওঠেনা।
প্রসঙ্গত, রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের বড়ো অংশ বিদ্রোহী হয়ে ওঠায় ইতিমধ্যেই পরিষদীয় দল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হয়েছে। সেখানে বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করেছেন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়করা।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন যে সংসদের আগামী অধিবেশনের আগেই তৃণমূলের সংসদীয় দলও ভাঙতে চলেছে এবং কমপক্ষে ১৮ থেকে ২০ জন তৃণমূল সাংসদ শিবির বদল করতে চলেছেন। অন্য একটি সূত্র অনুসারে, ৮ জুন নয়াদিল্লীতে ইন্ডিয়া মঞ্চের বৈঠক চলাকালীনই এই সাংসদরা দলত্যাগ করবেন। এই পরিস্থিতিতে দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ফের সংসদে ফিরতে চান বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন