TMC: চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাসপেন্ড অভিষেক, ঋতব্রত তৃণমূলে নতুন সমীকরণ

People's Reporter: তৃণমূল বিধায়কদের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান করা হল মধ্য হাওড়া তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায়কে। বিক্ষুব্ধ শিবিরের এদিনের সভায় প্রস্তাব এনে ভেঙে দেওয়া হয় আগের জাতীয় কর্মসমিতি।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফাইল ছবি, গ্রাফিক্স সুমিত্রা নন্দন
Published on

খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দলের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দিল তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবির। একইসঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সোমবার রাজ্য বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের পর নিউটাউনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবির।

২২ জুন তৃণমূল বিধায়কদের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে মধ্য হাওড়া কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায়কে। বিক্ষুব্ধ শিবিরের এদিনের সভায় প্রস্তাব এনে ভেঙে দেওয়া হয় আগের জাতীয় কর্মসমিতি। তৃণমূলের দলীয় বিধি অনুসারে ২০ নম্বর ধারায় বলা আছে প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের কথা। শেষবার এই বৈঠক হয়েছিল ২০২২ সালে। এরপর আর কোনও বৈঠক হয়নি। তাই আগের জাতীয় কর্মসমিতি ভেঙে এদিন নতুন কর্মসমিতি গঠিত হয়। যার চেয়ারম্যান করা হয় অরূপ রায়কে।

নিউটাউনের একটি হোটেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর বৈঠকে তৈরি হওয়া নতুন কর্মসমিতিতে সহ সভাপতি হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস, বর্তমান বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম এবং রথীন ঘোষ। দলের কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন আখরুজ্জামান। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিন। মোট ৩০ জনের নতুন এগজিকিউটিভ কমিটি তৈরি করা হয়েছে। করা হয়েছে ১১ জনের এক কোর কমিটিও।

উল্লেখযোগ্যভাবে শুধু বিধায়কদের মধ্যেই তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী আটকে নেই। এবার তৃণমূলের কাউন্সিলররাও এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীতে যোগ দিতে শুরু করেছেন। সোমবারের বৈঠকে ৬০ জন বিধায়ক ছাড়াও হাজির ছিলেন কলকাতার প্রায় ৭০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর। এছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকেও বেশ কিছু বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলর এদিনের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।

তৃণমূলের অন্দরে সই কান্ডের অস্বস্তির মাঝেই বিধানসভায় সরাসরি বিদ্রোহী হয় ৮০ জন জয়ী তৃণমূল বিধায়কের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ। বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে স্পিকারের কাছে পৌঁছে যান বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কাছে ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়কের স্বাক্ষর ছিল। তার ভিত্তিতেই বিরোধী দলনেতার পদ দাবি করেন ঋতব্রত। বিধানসভার স্পিকার যদি বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের দাবি মেনে তাঁকে বিরোধী দলনেতা পদে স্বীকৃতি দেয়। বিদ্রোহী গোষ্ঠী বিধানসভায় তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তখনই সরকারি ভাবে প্রথম ভেঙে যায় তৃণমূল।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
TMC: তিন টুকরো তৃণমূল; এবার 'ফ্রিজ' দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট! আপাতত বন্ধ লেনদেন
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
TMC: ক্ষমতা হারানোর ৩৪ দিনের মধ্যেই তৃণমূল তিন টুকরো! শাসকপক্ষে কে, আর কেই বা বিরোধী?

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in