

দলে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দুই তৃতীয়াংশের বেশি বিধায়কের বিদ্রোহের পর তড়িঘড়ি ভেঙে দেওয়া হল তৃণমূলের সমস্ত কমিটি। বুধবার দুপুরে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এক সংক্রান্ত এক পোষ্ট করা হয়েছে। দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ওই পোষ্টেই দলের সমস্ত কমিটি ভেঙে দেবার কথা জানানো হয়েছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে করা ওই পোষ্টে বলা হয়েছে, “বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত কমিটি এবং এর সমস্ত সহযোগী সংগঠন অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া হবে। দল প্রতিটি স্তরে ব্যাপক আত্মসমীক্ষা, কর্মসম্পাদন পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক মূল্যায়ন করবে। এই পর্যালোচনার ফলাফলের ভিত্তিতে মূল সংগঠন এবং সমস্ত সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করে যথাসময়ে তা ঘোষণা করা হবে। দল তার সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবং নতুন উদ্যম ও উদ্দেশ্য নিয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই টানাপোড়েন চললেও বুধবারই তৃণমূলের ভাঙন নিশ্চিত হয়ে গেছে। এদিনই বিদ্রোহী বিধায়করা বিধানসভায় এক বৈঠকের পর বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করেন। এরপরেই বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়করা স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি পেশ করেন। যে চিঠিতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। ডেপুটি হিসেবে নাম আছে শিউলি সাহা, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহার। মুখ্য সচেতক রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান। জানা যাচ্ছে, স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু এই চিঠি গ্রহণ করলেও এখনও পর্যন্ত তাঁর সিদ্ধান্ত জানাননি। বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের দেওয়া এই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দলনেত্রী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এর আগে ৩১শে মে এবং ২ জুন পরপর দু’বার শক্তি পরীক্ষায় নেমে ব্যর্থ হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩১মে তাঁর ডাকে দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র এক চতুর্থাংশ উপস্থিত হয়েছিলেন কালীঘাটে। ফলে সেই বৈঠক বাতিল করে দিতে হয়। এরপর ২ জুন মঙ্গলবারও ধর্মতলায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিলেও সাকুল্যে ১০ শতাংশও বিধায়কও উপস্থিত হননি। ফলে পরপর দু’বার শক্তি দেখাতে চাইলেও তা পারেননি সুপ্রিমো। পরপর দুদিনের এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে তৃণমূলে আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন