তারাতলার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। ১৯ জন এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তারাতলার ঘটনা প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক বৈঠক করে একথা জানিয়েছেন কলকাতার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগরওয়াল। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও উদ্ধারকাজ শেষ হয়নি। নির্মীয়মাণ ওই গুদামে কত জন শ্রমিক কাজ করছিলেন তার সঠিক কোনও হিসেব পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এখনও কোনও শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছে কিনা তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ, শ্রমিকদের উপস্থিতির কোনও হিসেব রাখা হত না বলেই অভিযোগ।
বুধবার তারাতলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের রুজু করা এক স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় মোট পাঁচ জনের নামে এফআইআর ছিল। যাঁদের মধ্যে প্রধান ঠিকাদার আসগর হোসেনের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত যে সংস্থা জমি লিজ নিয়ে গুদাম নির্মাণ করছিল সেই সংস্থার মালিক শম্ভুনাথ বেহেরা, অয়ন ট্রেডারস-এর বিল্ডিং সুপারভাইজার মহম্মদ গুলজার, লোহার কাঠামো প্রস্তুতকারক কমল সামন্ত, লেবার কন্ট্রাকটর দিবাকর ভান্ডারী এবং কলকাতা পুরসভায় নকশা অনুমোদনের দালাল আবদুল হামিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, পুলিশের একাধিক দল এই ঘটনার তদন্ত করছে। যাঁদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তাঁদের সঙ্গেও পুলিশ কথা বলতে পারে। এছাড়াও যেহেতু এই গুদামের অনুমোদন কলকাতা পুরসভা দিয়েছিল তাই তাদের কাছ থেকেও কিছু নথি ও তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে, তারাতলা কান্ডের জন্য পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, এই ঘটনায় কাউকে ছাড়া হবে না। তারাতলার ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা শহর ও শহরতলীতে সমস্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভেঙে পড়া গুদামের নকশায় কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর আছে।
যদিও ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, এই স্বাক্ষর করার কোনও এক্তিয়ারই তাঁর ছিলনা। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই স্বাক্ষর করার এক্তিয়ার কোনও মেয়রেরই থাকে না। বিল্ডিং প্ল্যান খতিয়ে দেখে বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট। এ ক্ষেত্রে আলাদা করে মেয়রের কিছু করার থাকে না।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন