

রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আরও একবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক সময়ে এই নিয়ে কমিশনকে পঞ্চম চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী। এবারের চিঠিতে মূলত এসআইআর-এর শুনানি পর্বে ভোটারদের হয়রানির কথাই তিনি তুলে ধরেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটারদের দেওয়া নথি গ্রাহ্য করছে না কমিশন এবং প্রাপ্তিস্বীকার করছে না। ফলে কোনও ভোটার কমিশনের কাছে শুনানির সময় কী নথি জমা দিচ্ছেন তার কোনও প্রমাণ থাকছে না।
এদিনের চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যে পদ্ধতিতে কাজ হচ্ছে তাতে যে কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে। এই পদ্ধতি সঠিক নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের চিঠিতে বলা হয়েছে, শুনানি পর্বে নির্বাচকরা নিজেদের পক্ষে যেসব নথি জমা করছেন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার কোনও প্রাপ্তিস্বীকার করে কোনও রিসিট দিচ্ছে না কমিশন। পরে কমিশন যদি জানায় যে এই নথি পাওয়া যায়নি বা জমা হয়নি এবং তার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম কাটা যাবার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। এই ধরণের পদ্ধতি সঠিক নয়।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, গত দু’দশক ধরে নিজেদের করা কাজ, কর্মপদ্ধতি অস্বীকার করছে কমিশন। যা সম্পূর্ণভাবে অযৌক্তিক। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন কেন ২০০২-এর পদ্ধতির সম্পূর্ণ উল্টো পদ্ধতিতে কাজ করা হচ্ছে? এর অর্থ কি এই যে এর আগে গত কয়েক বছরে যা যা কাজ করা হয়েছে তার সবই বেআইনি?
তিনি আরও বলেন, এছাড়াও বহু ক্ষেত্রে খুব ছোটোখাটো বিষয় নিয়েও আপত্তি তোলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেছেন, বহু ক্ষেত্রে নিজের নাম এবং বাবার নাম (Kumar and Kr or Shaik and Sk), বয়সের ক্ষেত্রে ছোটখাটো ভুল হয়ে থাকে। যেসব ত্রুটি বিএলও/ইআরও/এইআরও-দের দিয়েই ঠিক করিয়ে নেওয়া যায়। তা না করে সেসব ক্ষেত্রেও শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে কমিশন নিজেই নিজের নির্দেশ থেকে সরে আসছে।
এর আগে গত শনিবার, ১০ জানুয়ারিও তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। যেখানে তিনি এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হয়রানির কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, ‘‘কমিশনের এই প্রক্রিয়া অনেকাংশেই যন্ত্র নির্ভর। সেখানে সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে।’’ পাশাপাশি তিনি এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ তুলে তিনি জানান, এসআইআর পর্বে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে! ওই চিঠিতেই তিনি প্রশ্ন তোলেন অমর্ত্য সেন, জয় গোস্বামী, মহম্মদ শামি, দেব-কে শুনানির নোটিস পাঠানো নিয়েও।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন