

এসআইআর নিয়ে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপি নেতৃত্বের। যে মন্তব্যের পর বিতর্ক ধেয়ে এসেছে কলকাতার সাংবাদিক বৈঠকের পরেই। সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি তফশিলি মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি লাল সিং আর্য-র মন্তব্যে প্রবল অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপি। তড়িঘড়ি রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে যে মন্তব্য প্রসঙ্গে বলতে হয়েছে, দল এই মন্তব্য অনুমোদন করছে না। এমনকি ওই সাংবাদিক সম্মেলনের লিঙ্কও দেখা যাচ্ছে রাজ্য বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া পেজে।
গতকাল রবিবার বিজেপির রাজ্য দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠকে তফশিলি মোর্চার রাজ্য সভাপতি সুদীপ দাস এবং বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়কে পাশে নিয়ে তফশিলি মোর্চার সর্বভারতীয় নেতা বলেন, “বাংলাদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে যে কেউই এসে থাকুক ভোটার তালিকায় তাঁর নাম কোথাও থাকা উচিত নয়। এখানে জাতি ধর্মের কোনও বিষয় নেই। একদিকে এই রাজ্যের মতুয়া সমাজের বহু মানুষ যখন এসআইআর নিয়ে দিশেহারা, আশঙ্কায় ভুগছেন তখন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মুখ থেকে স্পর্শকাতর বিষয়ে এই ধরণের মন্তব্যে প্রবল অস্বস্তিতে পড়ে যায় রাজ্য বিজেপি এবং যার রেশ এখনও চলছে। যে ঘটনার জেরে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, এই ধরণের অতিথিরা রাজ্যে স্বাগত নন।
রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে শরণার্থী-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তীব্র উদ্বেগ আছে। তার মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে আসা এই মন্তব্যের পর বিতর্ক বেড়েছে। বিশেষ করে যেখানে মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় ভুগছেন।
গতকালের ঘটনার পর সোমবারেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে রাজ্য বিজেপি। গতকালই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলীয় নেতার এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে বলেছেন, এটা তাঁর ব্যক্তিগত মত। এই বিষয়ে দলের অবস্থান আলাদা। যদিও তাতেও সমস্যা না মেটায় সোমবার তড়িঘড়ি এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যে সাংবাদিক সম্মেলন তিনি শুরুই করেছেন মতুয়া সমাজকে নিয়ে। তাঁর সাংবাদিক সম্মেলনে উঠে এসেছে হিন্দু শরণার্থীদের কথা। এদিন তিনি বলেন, ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সমর্থনে সভা করতে এসে মতুয়া সমাজের উদ্দেশ্যে বলে গেছিলেন আপনাদের আমরা নাগরিকত্ব দেবো।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আজই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক পুরোনো ভিডিও ক্লিপিংস বিজেপি রাজ্য সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে পোষ্ট করা হয়েছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রীকে মতুয়াদের নাগরিকত্বের কথা বলতে শোনা গেছে এবং শোনা গেছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের কথা।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেছিলেন, ‘‘সিএএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। সিএএ করা মানে কেন্দ্রীয় সরকারকে সহযোগিতা করা। সিএএ কারা করবেন, যাঁরা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন তাঁদের সিএএ করতে হবে। আপনার নাম কেন্দ্রের খাতায় নেই। ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড থাকলেই নাগরিক হওয়া যায় না। সেই কারণে সিএএ বানানো হয়েছে।’’
গত ডিসেম্বর মাসেও শান্তনু ঠাকুরকে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে সিএএ-র পক্ষে সওয়াল করতে দেখা গেছে। আর সম্প্রতি বাগদার এক জনসভায় তিনি বলেছিলেন, “পঞ্চাশ লক্ষ রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি মুসলিম, পাকিস্তানি মুসলিমকে বাদ দিতে যদি আমার সম্প্রদায়ের এক লক্ষ মানুষকে ভোটদান থেকে বিরত থাকতে হয় তাতে কোনটা লাভ?” যা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক হয়েছিল। ভোটাধিকার হারানোর ভয়ে শঙ্কিত হয়েছিল মতুয়া সমাজ।
একদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে প্রচার করা হচ্ছে মতুয়া ও নমশূদ্র সমাজের পাশে সবরকমভাবে প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন। সম্প্রতি কলকাতায় এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, শরণার্থীরা প্রত্যেকেই ভারতের নাগরিক। কেউ তাঁদের ক্ষতি করতে পারবে না। মতুয়াদের আশঙ্কিত হবার কোনও কারণ নেই। যদিও গতকাল লাল সিং আর্য-র মন্তব্যে ফের নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
গত মাসের মাঝামাঝি কোচবিহারে এক দলীয় কর্মসূচিতে বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের বক্তব্য নিয়েও যথেষ্ট জলঘোলা হয়েছিল। যেখানে তিনি বলেন, “ভোটার তালিকায় নাম না উঠলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত হতে পারে, বন্দীশিবিরে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন ডিটেনশন ক্যাম্প বানাবেন, যাদের নাম ওঠেনি তাঁদের রাখবেন। তারপর প্রমাণ করবে তোমরা কোন দেশি – এদেশি না ওদেশি।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন