Mukul Roy Death: 'ভিন্ন পথে যান আবার ফিরেও আসেন', মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন মমতা ব্যানার্জির

People's Reporter: বীরভূমে একটি সভার পরে অনুব্রত মণ্ডলকে পাশে দাঁড়িয়ে মুকুল রায় বলেছিলেন, ‘ভারতীয় জনতা পার্টি মানেই তৃণমূল’, যা নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল রাজ্য-রাজনীতিতে।
প্রয়াত মুকুল রায়, শোকজ্ঞাপন মমতা ব্যানার্জির
প্রয়াত মুকুল রায়, শোকজ্ঞাপন মমতা ব্যানার্জিরফাইল ছবি =
Published on

প্রয়াত হয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। রবিবার গভীর রাতে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। একাধিক শারীরিক সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই এই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭২। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক মহলে।

দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যা সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন ‘বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য’ মুকুল রায়। শেষ কয়েক মাস কাঁচরাপাড়ার বাড়িতেই থাকতেন। বেরোনো একেবারে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। অসুস্থতার কারণে মাঝেমাঝেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হত তাঁকে। গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কোমায় চলে গিয়েছিলেন। রবিবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক ছিলেন তিনি। সোমবার দুপুরে বিধানসভা চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর দেহ। সেখানে শ্রদ্ধা জানান বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, সুজিত বসুরা। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিও।

বিজেপি পরিষদীয় দলের তরফ থেক তাঁকে শ্রদ্ধা জানান অশোক দিন্ডা, পবন সিংহ, নরহরি মাহাতো।

একদা তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড-এর মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করেছেন দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি লেখেন, ‘’মুকুল রায়ের সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে।‘’ তাঁর ‘ভিন্ন পথে চলে যাওয়া এবং ফিরে আসার’ কথাও উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুকুল রায়ের মৃত্যুতে শোকবার্তা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও।

কংগ্রেসের হাত ধরে মুকুল রায়ের রাজনীতিতে আসা। এরপর ১৯৯৭ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন, তখন মুকুল তাঁর সাথে ছিলেন। দলটির প্রথম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হন মুকুল-ই। তৃণমূলে থাকাকালীন রাজ্যসভার সাংসদ থেকে শুরু করে রেলমন্ত্রীও হন তিনি। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে দলের সংগঠন মজবুত করে গেছেন তিনি।

এরপর ২০১৭ সালের নভেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। তাঁর হাত ধরে অনেকেই তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসেন। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তাঁকে প্রার্থীও করে বিজেপি। জয়ী হন। কিন্তু এর এক মাস পরেই সকলকে অবাক করে তৃণমূলে ফেরেন তিনি। এরপরই শরীর ভেঙে পড়ে তাঁর। সেভাবে আর রাজনীতির সাথে নিজেকে জড়াননি। তবে এরই মাঝে বীরভূমে একটি সভার পরে অনুব্রত মণ্ডলকে পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ভারতীয় জনতা পার্টি মানেই তৃণমূল’, যা নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল রাজ্য-রাজনীতিতে।

প্রয়াত মুকুল রায়, শোকজ্ঞাপন মমতা ব্যানার্জির
Mukul Roy: দলত্যাগবিরোধী আইনে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ, 'ঐতিহাসিক' রায় কলকাতা হাইকোর্টের!
প্রয়াত মুকুল রায়, শোকজ্ঞাপন মমতা ব্যানার্জির
Rajasthan: মুসলিম মহিলাদের কম্বল দেওয়া হবে না, প্রাক্তন বিজেপি সাংসদের মন্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in