

আরজি কর কান্ডে আখতার আলির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিল আলিপুর আদালত। এর আগে একাধিকবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও তিনি আদালতে হাজিরা দেননি। এরপরেই আখতার আলির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই ব্যক্তিই আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। সেই মামলার তদন্ত করে আখতার আলির বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছিলো সিবিআই।
সিবিআই যে চার্জশিট জমা দিয়েছে তাতে আখতার আলির নাম আছে এবং সিবিআই আখতার আলির বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছে। তাঁকে একাধিকবার সমন পাঠানোর পরেও আদালতে হাজিরা না দিয়ে গত ৪ তারিখ তিনি জামিনের আবেদন করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। যদিও কলকাতা হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, আরজি কর আর্থিক দুর্নীতি মামলায় অন্য অভিযুক্ত প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ বর্তমানে জেলে। সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন এই আখতার আলিই। যদিও তদন্তের পর চার্জশিটে সিবিআই-এর অভিযোগ, তিনি সন্দীপ ঘোষের আগে থেকে ওই হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন এবং তিনিও আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন।
শুক্রবার আলিপুর আদালতে সিবিআই-এর আইনজীবী জানান, একই অপরাধে সন্দীপ ঘোষ জেলে থাকলে আখতার আলি কেন বাইরে থাকবেন? যার উত্তরে আখতার আলির আইনজীবী জানান, তিনি অসুস্থ। তাই হাজিরা দিতে অপারগ। যদিও আদালত সেই বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে।
আখতার আলির হাজিরা এড়িয়ে যাবার প্রশ্নে সিবিআই-এর অভিযোগ, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়াচ্ছেন। বারবার কীভাবে তিনি ছাড় পাচ্ছেন?
প্রায় ৩ বছর আগে ২০২৩ সালে আর জি কর হাসপাতালের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের ১৫ টি অভিযোগ তুলে রাজ্য ভিজিল্যান্স কমিশনকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন ওই হাসপাতালের তৎকালীন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। অভিযোগগুলির মধ্যে ছিল – সরকারি অর্থের অপব্যবহার, স্বাস্থ্যভবন এবং কলেজ কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া সরকারি সম্পত্তি অনৈতিকভাবে অন্যের হাতে তুলে দেওয়া, শিক্ষাখাতে তহবিলের অপব্যবহার, অর্থ নিয়ে অবৈধভাবে আধিকারিকদের বদলি করা, চিকিৎসা বর্জ্য বেআইনিভাবে বিক্রি।
আখতার আলির দাবি ছিল, এই নিয়ে আওয়াজ তোলায় অধ্যক্ষ ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। যার ফলে প্রথমে তাঁকে বদলি করে পাঠানো হয় হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডে। পরে তাঁকে বদলি করা হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে। যদিও আখতার আলির নিজেও দুর্নীতিতে জড়িত বলে চার্জশিটে জানিয়েছে সিবিআই। এবার আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশের পর আরও সমস্যায় পড়তে চলেছেন প্রাক্তন এই ডেপুটি সুপার (নন মেডিক্যাল)।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন