বিজেপিতে যোগ দিয়েই রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রার্থীপদ পেয়ে গেলেন সদ্য তৃণমূলত্যাগী সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। এই তিনজনই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর এই তিনজন রাজ্যসভার সাংসদ পদ এবং তৃণমূল থেকে ইস্তফা দেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজ্য বিজেপি দপ্তরে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর হাত থেকে পতাকা নিয়ে বিজেপিতে যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে এই তিনজনের নাম ঘোষিত হয়। প্রসঙ্গত, এই তিনজনের ইস্তফাতে রাজ্যের তিনটি আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে আগামী ২৪ জুলাই। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তিন তৃণমূল সাংসদের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের মুখে পড়েন শমীক ভট্টাচার্য। যদিও পুরো বিষয়টিকে ‘ব্যতিক্রমী ঘটনা’ বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত ৪ মে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ৮ জুন রাজ্যসভার সাংসদ পদ এবং তৃণমূল থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। নিজের ইস্তফাপত্রে ৭৭ বছর বয়সী তৃণমূল সাংসদ লিখেছিলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে সর্বত্র বেলাগাম দুর্নীতি হয়েছে। দলের অন্দরে দুর্নীতি এবং দল নিয়ে মানুষের ক্ষোভ মাত্রা ছাড়িয়েছিল। তাই পতন অনিবার্য ছিল। দলের মধ্যেই সৎ নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন।”
এরপর গত ১০ জুন রাজ্যসভা সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেব। সাংসদ পদ থেকে তৃণমূল ছেড়ে তিনি সরাসরি গেছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বাড়িতে। তখনই অনুমান করা হয়েছিল যে তিনি খুব তাড়াতাড়ি বিজেপিতে যোগ দেবেন।
রাজ্যসভা থেকে তৃণমূলের দুই সাংসদের ইস্তফার পর ১১ জুন সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূল ছাড়েন সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক। এরপরেই বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। তখনই তাঁর বিজেপি যোগ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। সাংসদ পদ এবং তৃণমূল ছেড়ে তিনি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ‘বাংলার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে নেই তা ভোটের ফলাফলেই বোঝা গিয়েছে। জনাদেশ আমাদের পক্ষে ছিল না। উত্তরবঙ্গেও ভালো ফল হয়নি।’ ‘আগামী দিনে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যা নির্দেশ দেবেন, সেই মতো কাজ করব। আমার বয়স কম। রাজনীতিতে অনেক কিছু করার আছে। আগামী দিনে কী হবে সেটা সময় বলবে।’
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন