

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় ধাক্কা খেল সিপিআইএম। দল ছাড়ছেন তরুণ নেতা প্রতীক-উর-রহমান (Pratik Ur Rahaman)। শীর্ষ নেতৃত্বকে একটি চিঠি দিয়ে দল ছাড়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে তাঁর এই ইস্তফাপত্র।
সোমবার সকালে ভাইরাল হওয়া ইস্তফাপত্রের নীচে প্রতীক-উরের স্বাক্ষর রয়েছে। চিঠির তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি। চিঠিতে দলের রাজ্য সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে লেখা রয়েছে, ‘’সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না, মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এই অবস্থায় আমি পার্টির জেলা ও রাজ্য কমিটির দায়িত্ব তৎ সহ পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'’ (চিঠির সত্যতা যাচাই করেনি পিপলস রিপোর্টার)
যদিও প্রতীক-উর এই বিষয়ে প্রকাশ্যে এখনও মুখ খোলেননি। নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতেও কিছু জানাননি। একটি সংবাদ মাধ্যম এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া নিতে তাঁর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, 'যা বলার দলের ভিতরে বলেছি। মিডিয়ার সামনে এখনই কোনও কথা বলছি না।'
প্রতীক-উরের ইস্তফাপত্রের ছবি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও। তিনি লেখেন, ''সিপিএমের বায়োলজিকাল ফেরেব্বাজ নেতৃত্বের অংশ ও ফেসবুকের সভ্যতাহীন ফুটেজ বিপ্লবীদের দাপটে সিপিএমেরই প্রথম সারির যুবনেতাদের অবস্থা ও সিদ্ধান্ত এরকম। SFI শীর্ষনেতা, জেলা নেতা, রাজ্য কমিটির কিছু দায়িত্বে থাকা ও গত লোকসভায় ডায়মন্ডহারবারে সিপিএম প্রার্থী প্রতীক উর। সিপিএমকে সর্বস্তরে 0 তে নামানো সম্পাদক ও তাঁর কিছু অযোগ্য বাতেলাবাজের কাঠিবাজিতে এই সিদ্ধান্ত বলে খবর। চিঠির সত্যতা যাচাই করতে পারিনি। ভুল হলে ডিলিট করে দেব।''
কলেজে পড়ার সময় থেকেই বাম ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন প্রতীক-উর। দীর্ঘ সময় এসএফআই-এর রাজ্য সভাপতি পদে ছিলেন। লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে সিপিআইএম-এর প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। লড়াকু মনোভাব এবং ঝাঁঝালো বক্তৃতার জন্য তিনি জনপ্রিয়।
কিছুদিন আগেই দলের এক নেতার সঙ্গে তাঁর মতবিরোধের খবর সামনে এসেছিল। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টও করেছিলেন। যেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘নীতি-নৈতিকতা ছাড়া, আর যাই হোক, কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।’ যদিও সেখানে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে মহম্মদ সেলিমের একান্ত বৈঠকের পরই এই পোস্ট করেছিলেন প্রতীক-উর।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন