

রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে ধরতে এবার তৎপর রাজ্য প্রশাসন। নতুন করে এই মামলা শুরু হয়েছে। বিধাননগর পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে এসটিএফ-এর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। গতকাল রাতেই তাঁর নিউটাউনের বাড়িতে বিশেষ তদন্তকারী দল অভিযান চালায়। দলে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন। জানা গেছে, তাঁর বাড়ি থেকে বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বপন কামিল্যা নামক এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মণ। এই মুহূর্তে তিনি পলাতক।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর সল্টলেকের স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার করা হয় নিউটাউনের যাত্রাগাছি খাল পাড় অঞ্চল থেকে। এই ঘটনার পরেই ৩১ অক্টোবর নিহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী বিধাননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যেখানে তিনি রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের নাম উল্লেখ করেন। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রশান্ত বর্মণের গাড়ির চালক, এক ঠিকাদার এবং কোচবিহারের এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করলেও প্রশান্ত বর্মণকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকেনি।
এই মামলায় বারাসত জেলা আদালত থেকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেলেও পরে মামলা উচ্চতর আদালতে যায়। তখনই গা ঢাকা দেন প্রশান্ত বর্মণ। পরে এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে গেলে শীর্ষ আদালত তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টের আত্মসমর্পণের নির্দেশের পরেই তিনি পদ থেকে অপসারিত হন। তবে শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশ অগ্রাহ্য করে গা ঢাকা দিয়েই আছেন প্রশান্ত বর্মণ। পুলিশ জানায় তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
গত মাসেই নিউটাউনে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয় প্রশান্ত বর্মণ। স্থানীয় এক যুবকের তৎপরতায় পুলিশ তাঁকে আটক করে। যদিও পরের দিনই জামিনে ছাড়া পেয়ে যান প্রশান্ত এবং ফের গা ঢাকা দেন।
জানা যাচ্ছে, গতকাল রাতে প্রশান্ত বর্মণের বাড়ির প্রতিটি ঘরে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এই মামলার তদন্তে বিধাননগর পুলিশের পক্ষ থেকে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
কে এই প্রশান্ত বর্মণ?
২০২২ সালের মে মাসে WBCS পরীক্ষার প্রিলিমিনারি বিভাগে পাশ না করেও কিভাবে বিডিও পদে চাকরি পেলেন প্রশান্ত বর্মন তাই নিয়ে অভিযোগ দায়ের হয় এবং চাকরিপ্রার্থীরা বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে WBCS (Group A) পরীক্ষার প্রিলিমিনারিতে অকৃতকার্য হয়েছিলেন প্রশান্ত বর্মন। RTI রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ছিল ১৩। যেখানে Cut off ছিল ১২২। তা স্বত্ত্বেও Main পরীক্ষার জন্য তাঁর ডাক আসে। তাঁর বিরুদ্ধে সাদা খাতা জমা দেওয়ারও অভিযোগ আসে। প্যানেল বেরোলে সেখানে দেখা যায় প্রশান্ত বর্মন প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। তাঁর নামে কোর্টে কেস চলছে। এই অভিযোগে PSC অফিস অভিযান করে 'দুর্নীতি মুক্ত মঞ্চ'। PSC অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন