

অবশেষে অপসারিত হলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের বিডিওকে গতকালই আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। চলতি সপ্তাহের শুক্রবারের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। গতকাল শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারিত হলেন প্রশান্ত বর্মণ।
দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে বিডিও প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে নিহতের পরিবার। পুলিশি তদন্তেও প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে ওই খুনের ঘটনায় যুক্ত থাকার একাধিক তথ্য উঠে আসে। গ্রেপ্তার হন বিডিও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। যদিও গা ঢাকা দেন প্রশান্ত বর্মণ।
এরপরেই প্রথমে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন প্রশান্ত বর্মণ এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। নিম্ন আদালতে সেই আবেদন মঞ্জুর হয়। আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ। খারিজ হয়ে যায় বারাসত আদালতের নির্দেশ। বিচারপতি নির্দেশ দেন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের। যদিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ না করায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
যদিও হাইকোর্টের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে তিনি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। যে মামলায় গতকাল সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছে। তবে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, আত্মসমর্পণের পর তিনি জামিনের আবেদন করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, নিউটাউনের যাত্রাগাছি থেকে গত ২৯ অক্টোবর উদ্ধার হয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ। ৩১ তারিখ নিহত ব্যবসায়ীর পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় বিডিও প্রশান্ত বর্মণ এবং তাঁর কয়েকজন সঙ্গীর বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অপহরণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই উঠে আসে প্রশান্ত বর্মণের নাম।
আদালতে পুলিশের দাবি স্বর্ণকার হত্যার ঘটনায় তিনিই মূল অভিযুক্ত। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি অফিসে যাননি তিনি। বিভিন্ন মহলের অভিযোগ শাসক দলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার প্রবল দাপট ছিল।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ওই বিডিওর গাড়ির চালক এবং উত্তরবঙ্গের এক ঠিকাদার, কোচবিহারের এক তৃণমূল নেতা ও তাঁর গাড়ির চালক সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে নিহত ব্যবসায়ীর ময়নাতদন্ত রিপোর্টে দেখা গেছে তাঁর দেহে ৩২টি ক্ষতচিহ্ন ছিল।
এর আগে ২০২২ সালের মে মাসে WBCS পরীক্ষার প্রিলিমিনারি বিভাগে পাশ না করেও কিভাবে বিডিও পদে চাকরি পেলেন প্রশান্ত বর্মন তাই নিয়ে অভিযোগ দায়ের হয় এবং চাকরিপ্রার্থীরা বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে WBCS (Group A) পরীক্ষার প্রিলিমিনারিতে অকৃতকার্য হয়েছিলেন প্রশান্ত বর্মন। RTI রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ছিল ১৩। যেখানে Cut off ছিল ১২২। তা স্বত্ত্বেও Main পরীক্ষার জন্য তাঁর ডাক আসে। তাঁর বিরুদ্ধে সাদা খাতা জমা দেওয়ারও অভিযোগ আসে। প্যানেল বেরোলে সেখানে দেখা যায় প্রশান্ত বর্মন প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। তাঁর নামে কোর্টে কেস চলছে। এই অভিযোগে PSC অফিস অভিযান করে 'দুর্নীতি মুক্ত মঞ্চ'। PSC অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
বিক্ষোভকারীদের একাধিক দাবির মধ্যে অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনকে অবিলম্বে শাস্তি দেবার দাবি জানানো হয়েছিল।