

এ কথা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই যে রাস্তাঘাটে যত্রতত্র সাধারণ মানুষ প্রস্রাব করে থাকেন। শহর কলকাতার যে কোনও জায়গাতেই যাওয়া হোক না কেন, এই দৃশ্য সর্বত্রই দেখা যায়। যা দৃশ্যদূষণের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও ঘটায়। সেই দৃষ্টিভঙ্গী থেকে রাজ্যের নতুন সরকারের এই সংক্রান্ত বিধি অবশ্যই ভালো পদক্ষেপ। গত ৮ জুলাই এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকাশ্যে প্রস্রাব করলে অথবা থুতু ফেললে ২০০ টাকা করে জরিমানা দিতে হতে পারে।
যদিও সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে শহর কলকাতায় পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা কত? এই বিষয়ে টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের এক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, সংখ্যাটা ৪৭৮। যার মধ্যে ১৭টি পাবলিক টয়লেট শুধুমাত্র মহিলাদের ব্যবহারের জন্য। শহর কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ড জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এইসব পাবলিক টয়লেট। যার মধ্যে কিছু আছে বিনামূল্যের এবং কিছু আছে মূল্যের বিনিময়ে।
এখনও পর্যন্ত এই শহরের সমস্ত মেট্রো স্টেশনে পাবলিক টয়লেট নেই। কলকাতা পুরসভা এলাকা ছাড়িয়ে বৃহত্তর কলকাতার অংশে এই অবস্থা আরও ভয়াবহ। ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (কেএমসি) শহর জুড়ে প্রায় ৫০০টি পাবলিক টয়লেট রক্ষণাবেক্ষণ করে। এই তথ্য জানিয়েছিলেন তৎকালীন মেয়র পরিষদের সদস্য স্বপন সমাদ্দার। অর্থাৎ ২০২৩ থেকে ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শহরে পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা বেড়েছিল মাত্র ২২টি। যদিও ২০২৩ সালের সেপ্টম্বরে কলকাতার তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছিলেন, কলকাতার ১৪৪ টি ওয়ার্ডে আরও ৪০০টি পাবলিক টয়লেট তৈরি করা হবে।
সংখ্যাটা ৪৭৮ হোক বা ৫০০ বা তার চেয়ে কিছু বেশি, এই সংখ্যা কি যথেষ্ট? এটা তো সত্যি যে এই কলকাতাতেই এরকম বহু জায়গা আছে যেখানে কারোর প্রস্রাব পেলেও প্রস্রাব করার জায়গা নেই। ১৪৪ টি ওয়ার্ডে ৫০০ পাবলিক টয়লেট থাকার অর্থ ওয়ার্ড পিছু ৩টির কিছু বেশি পাবলিক টয়লেট। যা অবশ্যই সমভাবে বন্টিতও নয়।
একথা ঠিক যে বহু মানুষ যেমন সুলভ কমপ্লেক্স থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রকাশ্যে প্রস্রাব করেন, তেমনই এটাও সত্যি বহু মানুষ কাছাকাছি সুলভ কমপ্লেক্স না পেয়ে প্রকাশ্যে প্রস্রাব করতে বাধ্য হন। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষরা, যাঁদের এই সংক্রান্ত সমস্যা আছে। এ ছাড়াও বহু জায়গাতেই পাবলিক টয়লেটের অবস্থা এতটাই ভয়াবহ থাকে যে বহু মানুষ প্রয়োজন হলেও তা এড়িয়ে চলেন।
রাজ্য সরকার এই বিষয়ে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে যে বিধি আনতে চলেছে তাতে প্রকাশ্য প্রস্রাব করা, থুতু ফেলা এবং আবর্জনা ফেলায় ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ছ’মাসের মধ্যে রাজ্যজুড়ে ৪৪০টি কমিউনিটি টয়লেট এবং ৬৬৭টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এছাড়াও প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করার জন্যও বিশেষ উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। গতকালই এই প্রসঙ্গে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, সমস্ত বাজারে কাপড় পাট বা পরিবেশবান্ধব উপাদানে তৈরি ব্যাগের ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে। কেউ বাজারে ব্যাগ নিয়ে যেতে ভুলে গেলে ওই ভেন্ডিং মেশিন থেকে স্বল্পমূল্যে ব্যাগ কিনতে পারবেন।
ভারতে প্রকাশ্যে প্রস্রাব করা 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা' (BNS)-এর অধীনে জন-উপদ্রব বা ‘পাবলিক নিউসেন্স’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সংহিতার ২৯৬ ধারায় প্রকাশ্য স্থানে অশ্লীল কার্যকলাপের (যার মধ্যে প্রকাশ্যে প্রস্রাব করাও অন্তর্ভুক্ত) বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এই অপরাধের জন্য তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন