১২ জুলাই থেকে ১২ আগস্ট। এক মাসে তিনবার রঙ বদল হল আকাদেমি অফ ফাইন আর্টসের। আকাদেমির রঙের দখলদারি বুধবার নতুন মোড় নিলো। গত ১২ জুলাই আকাদেমির সামনের অংশ গেরুয়া রঙ করে দেওয়ার পর গতকালই সেখানে নাট্যকর্মী ও কলাকুশলীরা গিয়ে সাদা রঙ করে দেন। বুধবার ১২ আগস্ট ফের সেই জায়গায় গিয়ে বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের নেতৃত্বে কিছু মানুষ জায়গাটিতে ফের গেরুয়া রঙ করে দিয়েছেন। যা নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল।
এদিন আকাদেমিতে রঙ করতে গিয়ে বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, সিপিআইএম-এর শ্রমিক সংগঠন এই ঐতিহ্যকে দখল করে রাখতে চাইছে। তিনি আরও বলেন, গেরুয়া ত্যাগের রঙ। তার বিরুদ্ধাচরণ করা হয়েছে। বিকাশ ভট্টাচার্য গেরুয়ার বিরুদ্ধাচরণ করেন। তাই তিনিও ওই ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিজেপি বিধায়কের মন্তব্য প্রসঙ্গে আইনজীবী ও প্রাক্তন সিপিআইএম সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, গেরুয়া রঙ সত্যিই ত্যাগের প্রতীক। কিন্তু বিজেপিই তো গেরুয়ার অমর্যাদা করছে। আজ ওরা যা করেছে তাতে বোঝা যাচ্ছে দলটা গুন্ডাদের হাতে চলে গিয়েছে।
বুধবারের ঘটনা প্রসঙ্গে নাট্য পরিচালক ও অভিনেতা চন্দন সেন জানিয়েছেন, কালকেই ওরা বলেছিল একদিনের মধ্যে গেরুয়া রঙ করে দেবে। সেটাই করলো। ওরা ওদের রুচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তবে ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ হবেনা।
রাজ্যে তৃণমূলকে সরিয়ে বিজেপি ক্ষমতাসীন হবার পর গত ১২ জুলাই আকাদেমির সামনের কিছু অংশে গেরুয়া রঙ করে দেন কিছু মানুষ এবং ওই অংশে তাঁরা একটি ভারত মাতার ফ্লেক্সও টাঙিয়ে দেন। এরপরেই এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান নাট্যকর্মীরা। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে চিঠি লেখার পাশাপাশি চন্দন সেন সহ বেশ কয়েকজন তাঁর কাছে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসেন।
এই ঘটনার নিন্দা করে শমীক ভট্টাচার্য নাট্যকর্মীদের আশ্বস্ত করেন এবং তাঁদের কাছে পুরো বিষয়টি মিটিয়ে দেবার জন্য পনেরো দিন সময় চেয়ে নেন। নির্ধারিত পনেরো দিন পেরিয়ে গেলেও কিছু না হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার আকাদেমির সামনে কিছু নাট্যকর্মী ও কলাকুশলী জড়ো হয়ে ওই গেরুয়া রঙের ওপরেই সাদা রঙ করে দেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন