

২ জুনের পর আজ রবিবার ফের যাদবপুর স্টেশনে হকার উচ্ছেদের চেষ্টা। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী, সৃজন ভট্টাচার্য, সুদীপ সেনগুপ্ত, মোনালিসা সিনহা, আইনজীবী ফিরদৌস শামিম প্রমুখ। এই মুহূর্তে যাদবপুর স্টেশনে হকারদের সঙ্গে নিয়ে মিছিল করছেন বাম নেতৃত্ব। মিছিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছেন বহু সাধারণ মানুষ। আছেন কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চ্যাটার্জি।
এদিনই রাত ৯টা নাগাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বাম নেতা প্রথম যাদবপুরে আজ আবার হকারদের উচ্ছেদ করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান। এরপরেই সিপিআইএম নেতৃত্ব, বাম কর্মীরা যাদবপুর স্টেশনে উপস্থিত হন। চলে আসেন কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়। ঘটনাস্থলে একটি বাসে করে বাহিনী আসতে দেখা গেছে।
কিছুক্ষণ আগে সিপিআইএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে যারা এখানে এসেছেন তাঁদের অনুরোধ করছি আমরা রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। আদালতের নির্দেশ আছে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা যাবে না। তাই আপনারা এমন কিছু করবেন না যাতে আদালত অবমাননা হয়। তিনি আরও বলেন, ২ জুন বলা হয়েছিল ২৯ জুন পর্যন্ত এখানে কোনও উচ্ছেদ করা হবে না। কিন্তু ৭ই জুন রাতেই আবার উচ্ছেদের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সৃজন উপস্থিত জমায়েতের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কেউ প্ররোচনায় পা দেবেন না। আমরা আলোচনা করতে এসেছি। আইন মোতাবেক আলোচনা হোক। আমরা সেই আলোচনায় অংশ নিতে চাই।
গত মঙ্গলবার ২ জুন রাত থেকে দফায় দফায় উত্তেজনার পর অবশেষে সাময়িকভাবে উচ্ছেদ আটকে দেন হকাররা। সোমবার রাত থেকে তাঁদের এই প্রতিরোধে শুরুর থেকে শামিল ছিলেন সিপিআইএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য সহ বহু বাম নেতা কর্মী সমর্থক। পরবর্তী সময়ে সেখানে এসেছিলেন আইনজীবী শামিম আহমেদ। দীর্ঘ আলোচনা এবং লাগাতার বিক্ষোভের পর ওইদিন গভীর রাতে ফিরে যায় বুলডোজার।
রবিবারই সিআইটিইউ’র নেতৃত্বে প্রতিরোধের জেরে শ্যামনগরেও হকার উচ্ছেদ থেকে পিছু হটে রেল। ওয়েস্ট বেঙ্গল রেল হকার্স ইউনিয়ন এবং সিআইটিইউ প্রতিরোধ জারি রেখেছে। শ্যামনগর স্টেশনে হকার উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। সিআইটিইউ’র ডাকে রেল হকারদের নিয়ে প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়।
এরপর সিআইটিইউ নেতৃবৃন্দ স্টেশন ম্যানেজারের কাছে ডেপুটেশন দেন। শ্যামনগর স্টেশনে হকার উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত রেল কর্তৃপক্ষ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
সিআইটিইউ উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা কমিটির সম্পাদক গার্গী চ্যাটার্জি এদিন বলেন, ‘‘রেল হকারদের পুর্নবাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা যাবে না। রেল হকারদের এই দোকানের ওপর পরিবার পরিজনের জীবন জীবিকা নির্বাহ হয়। রেল হকারদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘রেল হকারদের পুর্নবাসন না দিয়ে উচ্ছেদ করতে এলে হকারদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’’
(বিস্তারিত আসছে)
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন