

মঙ্গলবার রাত থেকে দফায় দফায় উত্তেজনার পর অবশেষে সাময়িকভাবে উচ্ছেদ আটকে দিলেন হকাররা। গতকাল তাঁদের এই প্রতিরোধে শুরুর থেকে শামিল ছিলেন সিপিআইএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য সহ বহু বাম নেতা কর্মী সমর্থক। পরবর্তী সময়ে সেখানে এসেছিলেন আইনজীবী শামিম আহমেদ। দীর্ঘ আলোচনা এবং লাগাতার বিক্ষোভের পর গভীর রাতে ফিরে যায় বুলডোজার।
মঙ্গলবার রাতের দিকে যাদবপুর স্টেশনের বাইরে জমা হয় বেশ কয়েকটি বুলডোজার। সাথে ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী। উচ্ছেদের আশঙ্কায় আশঙ্কিত হকাররা তাঁদের পরিবারসহ ঘটনাস্থলেই ছিলেন। বুলডোজার আসার খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন সৃজন ভট্টাচার্য সহ বহু বাম কর্মী সমর্থক। এরপরেই যাদবপুর স্টেশন জুড়ে শুরু হয় মিছিল। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বুলডোজার আটকাতে তাঁরা স্টেশন চত্বরেই সারা রাত অবস্থান করবেন।
বাম নেতা কর্মীদের আশঙ্কা ছিল গতকাল রাতেই যাদবপুর স্টেশনে হকার উচ্ছেদ হবে। তাই আইনি কাগজপত্র নিয়েই তাঁরা এসে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। উপস্থিত হকারদের উদ্দেশ্যে সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না কোনও মীমাংসা সূত্র বেরোচ্ছে ততক্ষণ আমাদের এখানেই থাকতে হবে। উপস্থিত হকাররা এবং বাম কর্মী সমর্থকরা তাতে সায় দেয়। ক্রমশ স্টেশন চত্বরের বাইরে ভিড় বাড়তে থাকে বাম কর্মী সমর্থকদের।
ঘটনাস্থল থেকে আইনজীবী শামিম আহমেদ পুলিশের সঙ্গে আলোচনার সময় বলেন, হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট যে সমস্ত রায় দিচ্ছে সেখানে পুনর্বাসনের কথা বলছে কেন? বলছে কারণ প্রয়োজন আছে। দেশে আজকের দিনেও বেকার আছে এবং যাঁদের কাছে কোনও কর্মসংস্থান নেই। তাই তো সংবিধানের ১২১ ধারা অধিকার দিয়েছে যে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে দিতে হবে।
গভীর রাতে বুলডোজার ফিরে যাবার পর সৃজন ভট্টাচার্য হকারদের উদ্দেশ্যে বলেন, যাদবপুর স্টেশনে কোনও নাম সই ছাড়া কেউ একটা নোটিশ টাঙিয়ে দিয়ে গেছিল উচ্ছেদের। আমরা স্পষ্ট বলে দিচ্ছি, কোনও অজুহাত দেখিয়েই পুনর্বাসন ছাড়া এই মানুষগুলোকে উচ্ছেদ করা যাবে না। আমাদের রুটি রুজির প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। সেটাকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। রেলকে দেখতে হবে, সরকারকে দেখতে হবে। এখানে কে সিপিএম, কে তৃণমূল, কে বিজেপি তা দেখার দরকার নেই। আইনজীবী শামিম আহমেদ পুরোনো কেসের রেফারেন্স বের করে এই লড়াই লড়েছেন। আমাদের একটাই কথা, আইন মানুষের জন্য। মানুষ আইনের জন্য নয়। মানুষের পেটে লাথি মেরে জেসিবির গায়ের জোর দেখানো যাবে না। শ্রমজীবী মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে জেসিবির সামনে দাঁড়িয়েছে। নিজেদের হক বুঝে নেবার জন্য প্রয়োজনে বারবার রাস্তায় নামতে হবে। আমরা সাথে আছি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন