Dum Dum: রাতের অন্ধকারে দমদম স্টেশনে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল হকারদের স্টল; প্রতিরোধের চেষ্টায় সিআইটিইউ

People's Reporter: সিটু নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেন, এখান থেকে যারা তোলা তুলতো তারা আজ কোথায়? কতটা অমানবিক এই বিজেপি সরকার আজ প্রমাণ হয়ে গেছে। জনগণ এদের ক্ষমতায় বসিয়েছে, জনগণই এদের টেনে নামাবে।
শনিবার রাতে দমদম স্টেশনে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় হকারদের স্টল
শনিবার রাতে দমদম স্টেশনে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় হকারদের স্টল নিজস্ব চিত্র
Published on

রাতের অন্ধকারে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল দমদম স্টেশন এবং স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলের হকারদের স্টল। রাতেই মালগাড়িতে চাপিয়ে বুলডোজার এনে নামিয়ে দেওয়া হয় দমদম স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। গভীর রাত পর্যন্ত সিআইটিইউ নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যান হকাররা। যদিও বিরাট পুলিশ বাহিনী, সাঁজোয়া গাড়ি, বুলডোজারের সামনে তাঁদের কোনও প্রতিরোধই টেকেনি।

আগে থেকেই আশঙ্কা ছিল শনিবার রাতে দমদম স্টেশনে হকারদের স্টল ভাঙা হবে। গতকাল সন্ধ্যের পর থেকেই হকারদের সঙ্গে স্টেশনে ছিলেন সিআইটিইউ নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়, সিপিআইএম নেতা সোমনাথ ভট্টাচার্য, ময়ূখ বিশ্বাস সহ বহু হকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বহু বাম কর্মী সমর্থক।

রাতেই হকার উচ্ছেদ হতে পারে এই আশঙ্কায় শনিবার রাতেই রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন প্রাক্তন সিপিআইএম সাংসদ তড়িৎ বরণ তোপদার। তাঁরা একমাস অতিরিক্ত সময় দাবি করেন। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, সেই সময় তাঁদের মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।  

গতকালের ঘটনা প্রসঙ্গে সমাজমাধ্যমে সিপিআইএম নেতা সোমনাথ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, রেলের মনোভাব সবথেকে আগ্রাসী। তারা যে কোনও মূল্যে উচ্ছেদ চাইছে। এই উচ্ছেদ অমানবিক ও নজিরবিহীন। এঁদের অনেকেই কদিন আগে রাজ্যে বিজেপিকে সরকারে আনার জন্য ভোট দিয়েছিলেন। আর আজ তাঁদেরই রুটি রুজিতে লাথি মারলো এই সরকার। মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

সিআইটিইউ নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেন, এভাবে গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরে এই সরকার নিজেদের কর্পোরেট বান্ধব চরিত্র আরও স্পষ্ট করে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা জানি এই কর্পোরেটের দালালদের কাছে সংবাদমাধ্যম বিক্রি হয়ে গেছে। এই জায়গাগুলো বিক্রি করে দেওয়া হবে কর্পোরেটের কাছে।

তিনি আরও বলেন, এই জায়গা থেকে যারা তোলা তুলতো তারা আজ কোথায়? তিনি বলেন, কতটা অমানবিক হতে পারে এই বিজেপি সরকার আজ তার প্রমাণ হয়ে গেছে। রাজ্যে এখনও মন্ত্রীসভা গঠন করতে পারেনি যারা তারা হকার উচ্ছেদ চালিয়ে যাচ্ছে। এই সরকারের কোনও মানবিকতা নেই। অমানবিক সরকার। জনগণ এদের ক্ষমতায় বসিয়েছে, জনগণই এদের টেনে নামাবে।

গতকাল রাতেই দমদম ছাড়াও উত্তরপাড়ার রেল স্টেশন সংলগ্ন মাছ বাজার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় রেল পুলিশ। সেখানেও সিআইটিইউ-র নেতৃত্বে প্রতিরোধে নামে হকাররা। যদিও হকারদের প্রতিরোধ উড়িয়ে সেখানেও ভেঙে দেওয়া হয় সব দোকান।   

শনিবার রাতে দমদম স্টেশনে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় হকারদের স্টল
বিপর্যস্ত উত্তর! দুর্যোগ কবলিত এলাকায় ঘরে ঘরে ত্রাণ নিয়ে সিপিআইএম, বাম ছাত্র যুব মহিলা সংগঠন
শনিবার রাতে দমদম স্টেশনে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় হকারদের স্টল
Smart Meter: জেলায় জেলায় বিক্ষোভ-প্রতিবাদের জের, রাজ্যে আপাতত বসানো হচ্ছে না স্মার্ট মিটার

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in