

যাদবপুরে উচ্ছেদের প্রতিরোধে শামিল হকার এবং সাধারণ মানুষ সহ বাম নেতা কর্মীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে সিপিআইএম রাজ্য কমিটির সদস্য সৃজন ভট্টাচার্যকে। উচ্ছেদ আটকাতে এদিন রাত ১টার সময়েও যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলে বহু মানুষের ভিড়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে উচ্ছেদ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পুলিশের এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন বাম নেতৃত্ব। ঘটনার সময় পুলিশের উদ্যত লাঠির দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায় বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তীকে। অভিযোগ পুলিশের লাঠিচার্জে মাথা ফেটেছে নাট্যকর্মী জয়রাজ ভট্টাচার্যর।
প্রশাসনের এই অমানবিক পদক্ষেপ আটকাতে এদিন রাত থেকেই যাদবপুর স্টেশন চত্বরে জমায়েত হতে শুরু করে সাধারণ মানুষ। হকারদের সঙ্গে জোট বেঁধে তাঁরাও প্রতিরোধে শামিল হন। ছিলেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী, সৃজন ভট্টাচার্য, সুদীপ সেনগুপ্ত, মোনালিসা সিনহা, রতন বাগচী প্রমুখ। ছিলেন কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। ছিলেন ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।
সৃজন ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, “যারা হকারদের এখানে বসে থাকাটা বেআইনি বলছেন, তারা যে ভাবে হকার উচ্ছেদ করছেন সেটাও বেআইনি। এই চত্বরে কমার্শিয়াল প্লট না দিয়ে পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করা যাবে না — এই মর্মে ১৯৮৮ সালের রায় আছে। রেল সেই রায়ের সার্টিফায়েড কপি চেয়েছিল। গত মঙ্গলবার রেলের সঙ্গে পরিষ্কার কথা হয়েছিল। আগামী ৮ জুন কোর্ট খুলবে। কোর্ট খোলার পর ২১ দিন সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ২৯ জুনের মধ্যে আমরা সেই কাগজ রেলকে দিয়ে দেব। এর পরও কেন রেল কথার খেলাপ করছে জানি না।”
প্রতিরোধে শামিল হয়ে সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “এই ঘটনা গরীব মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। গরীব মানুষ খেটে খায়, তাদের উচ্ছেদ করতে হবে। মিশিয়ে দিতে হবে ধুলোয়। তাদের সংসার কিভাবে চলবে তা বোঝার দরকার নেই, কিন্তু আদানি-আম্বানির ব্যবসা হবে। ডবল ইঞ্জিন সরকার মানে ডবল আক্রমণের সরকার সেটাই এখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “শুভেন্দু বাবু বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বলেছিলেন গরিব মানুষদের উচ্ছেদ করা হলে বুলডোজারের সামনে তিনি নিজে এসে দাঁড়াবেন। এখন কোথায় তিনি? মুখ্যমন্ত্রী হয়ে কী ভোল বদলে গেছে? বিরোধী নেতা মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যদি মানুষের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনেন, যা বলেছিলেন সেই কথা যদি না রাখেন, মানুষ তার লড়াই বুঝে নেবেন। এই লড়াই আমরা ছাড়বো না।”
এক হকার সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী, আপনি যদি আমাদের পেটে লাথি মারেন তাহলে আমরা যাবো কোথায়? আমরা তো আপনার ওপর ভরসা করি।
জমায়েতে উপস্থিত আইনজীবী ফিরদৌস শামীম বলেন, এর আগের দিনেই মামলার কপি দেওয়া হয়েছিল। আগামীকাল সোমবার আবেদন করার পর আদালত থেকে সেই সারটিফায়েড কপি পাওয়া যাবে। কিন্তু পুলিশ সেই সময় দিতে রাজি নয়। ফুটপাথে জনগণের যেমন চলার অধিকার আছে তেমনই হকারদেরও অধিকার আছে। ২০১৪ সালের যে আইন সেই আইন মোতাবেক আপনাদের কাজ করতে হবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন