আন্দোলন না করলে করলে মানুষ আমাদের প্রধান বিরোধী রাখবে কেনো? - দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব দিলীপ ঘোষ

তথাগত রায়কে আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, "যাঁরা লোকের পায়ে ধরে চাকরি পেয়েছেন, বিজেপি পার্টি অফিসকে পানশালা বানিয়ে দিয়েছিলেন, জীবনে ফুর্তি ছাড়া কিছু করেননি, সেই সব আহাম্মকদের কথা কে শোনে?"
আন্দোলন না করলে করলে মানুষ আমাদের প্রধান বিরোধী রাখবে কেনো? - দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব দিলীপ ঘোষ
দিলীপ ঘোষফাইল চিত্র

ক্রমশ বেড়ে চলেছে তথাগত রায় বনাম দিলীপ ঘোষ দ্বন্দ্ব। প্রায় প্রতিদিনই প্রকাশ্যে একে অপরকে আক্রমণ শানাচ্ছে এই দুই বিজেপি নেতা। তবে পার্থক্য একটাই, একজন সরব টুইটারে, অন্যজন সংবাদমাধ্যমের সামনে সেই টুইটের পাল্টা দিচ্ছেন। এবার তথাগতের টুইটের জবাবে দিলীপের অভিযোগ, বিজেপির পার্টি অফিসকে পানশালা বানিয়েছিলেন তথাগত।

তথাগত রায় প্রায়ই নিজের টুইটারে দিলীপ ঘোষকে ফিটার মিস্ত্রি বলে কটাক্ষ করেন। বুধবারও এরকম একটি টুইট করেছিলেন তিনি। যেখানে তিনি লেখেন, "আমার এক বন্ধু বলেছেন আমি নাকি ফিটার মিস্ত্রিদের অপমান করেছি। কখনোই না। কিন্তু যদি অজান্তেও করে থাকি তাহলে তাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। কিন্তু যে ফিটার মিস্ত্রীটি ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে মিথ্যা এফিডেভিট করে নিজেকে ঝাড়গ্রাম পলিটেকনিকের ডিপ্লোমাপ্রাপ্ত বলে লিখেছিলেন, এবং যা ওই পলিটেকনিক অস্বীকার করেছে তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন নেই। কারণ মিথ্যা এফিডেভিট করা একটি দণ্ডযোগ্য অপরাধ।"

বৃহস্পতিবার এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, "যাঁরা লোকের পায়ে ধরে চাকরি পেয়েছেন, যাঁরা বিজেপি পার্টি অফিসকে পানশালা বানিয়ে দিয়েছিলেন, জীবনে ফুর্তি ছাড়া কিছু করেননি, যাঁরা সিপিআইএম ও তৃণমূল থেকে সব সুবিধা নিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল বিজেপি যাতে কোনো দিন ৪ শতাংশের বেশী ভোট না পায়। সেই সব আহাম্মকদের কথা কে শোনে? বয়সের দোষ। ৭২ বছর বয়স হয়ে গেলে মাথা কাজ করেনা।"

শুধু তথাগত রায়ের বিরুদ্ধে নয়, নাম না করে দলের বর্তমান রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, "রাজ্যে যে ধরনের অত্যাচার চলছিল, তার বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়িয়ে ছিলাম। লোকে আমাদের বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল। আমি নিজে রাস্তায় বেরিয়েছিলাম। মানুষ পিছনে দাঁড়িয়েছিল। মানুষ আশীর্বাদ করেছিল। এখন মানুষের সেই বিশ্বাস নেই। রাজ্যের লোক চায় আমরা মাঠে নেমে আন্দোলন করি। সেই রোল আমরা প্লে না করতে পারলে মানুষ আমাদের প্রধান বিরোধী হিসেবে রাখবে কেন? অনেক কিছুর অভাব আছে। প্ল্যানিংয়ের অভাব আছে। মনোবলের অভাব আছে। কর্মীরা আমাদের দিকে চেয়ে আছেন। কেউ পার্টি ছাড়েননি। ২০১৯ সাল পর্যন্ত যাঁরা পার্টিকে দাঁড় করিয়েছেন, তাঁরা মনে কষ্ট নিয়ে ঘরে বসে আছেন। তাঁরা ঘন্টার পর ঘন্টা পার্টির জন্য সময় দিতেন। তাঁদের হাতে এখন কোনো কাজ নেই। যোগ্য লোকদের বাদ দিলে কিভাবে হবে?"

উল্লেখ্য, গত বছর বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে হওয়া সমস্ত পুরসভা নির্বাচন, উপনির্বাচনে বিজেপির ভোট শতাংশ ব্যাপক হারে কমেছে। ভোট বেড়েছে বামেদের। বেশ কিছু জায়গায় বিজেপিকে ছাপিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামেরা। গত সপ্তাহে ফল ঘোষিত হওয়া বালিগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে সিপিআইএম প্রার্থী সায়রা শাহ হালিমের থেকে ১৮ হাজার ভোট কম পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী কেয়া ঘোষ

দিলীপ ঘোষ
WB BJP: কোনও যোগ্যতা নেই, তৃণমূলের থেকেও সুবিধা নিয়েছেন, তথাগতকে তীব্র আক্রমণ দিলীপের

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.