

প্রাপ্য মহার্ঘ্যভাতার দাবিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনে সংহতি জানালো রাজ্য বামফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার এই মর্মে রাজ্য বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে এক বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু ১৩ মার্চ কর্মচারীদের ধর্মঘটে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, “রাজ্য বামফ্রন্ট কর্মচারী ও শিক্ষকদের ন্যায্য দাবিগুলিকে সমর্থন জানাচ্ছে। এই ধর্মঘটের আহ্বানকে সমর্থন করছে।”
সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ নির্দেশের পরেও এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার রাজ্যের কোষাগার থেকে বেতনভুক শ্রমিক কর্মচারী শিক্ষকদের মহার্ঘ্যভাতা দেয়নি। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের যৌথ মঞ্চের কালীঘাট অভিযানের পর ওইদিনই ১৩ মার্চ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ এবং যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজ্যের সরকার দীর্ঘদিন ধরে মহার্ঘ ভাতা বকেয়া রেখেছে। সুপ্রিম কোর্ট তাদের নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়েছে, মহার্ঘ ভাতা আইনত বলবৎযোগ্য, ন্যায্য অধিকার। সর্বভারতীয় ভোগ্য পণ্যের মূল্যসূচক মেনে কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার বামফ্রন্টের বিবৃতিতে বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা বিমান বসু জানিয়েছেন, শ্রমিক কর্মচারী শিক্ষকদের বঞ্চনার প্রতিবাদে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে বেতনপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারী শিক্ষকদের যৌথ মঞ্চ ও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে আগামীকাল ১৩ মার্চ, ২০২৬ রাজ্যের সমস্ত সরকারি কার্যালয়, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, আদালতে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে। রাজ্যের কর্মচারী ও শিক্ষকদের সম্মিলিত সংস্থা ১২ই জুলাই কমিটিও এই ধর্মঘটকে সমর্থন করেছে।
বিবৃতিতে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে বলা হয়, শিক্ষার সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ীকরণের কোনও প্রচেষ্টা রাজ্য সরকারের নেই। শিক্ষক, পঞ্চায়েত পৌরসভা কর্মীদের পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় আনা হয়নি। ঘোষণা সত্ত্বেও সপ্তম বেতন কমিশন গঠিত হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ মামলায় রায় ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রর বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, বকেয়া ডিএ-র ১০০ শতাংশই রাজ্যকে মিটিয়ে দিতে হবে। তবে ২৫ শতাংশ মার্চের মধ্যেই মিটিয়ে দিতে হবে। আদালত আরও জানায়, দুই কিস্তিতে এই টাকা রাজ্যকে মেটাতে হবে। ৬ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তি এবং ৩১ মার্চের মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তি দিতে হবে। যদিও ৬ মার্চ পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত প্রথম কিস্তির টাকা মেটানো হয়নি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন