

পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ মামলার রায় ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, বকেয়া ডিএ-র ১০০ শতাংশই রাজ্যকে মিটিয়ে দিতে হবে। তবে ২৫ শতাংশ মার্চের মধ্যেই মিটিয়ে দিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, দুটো কিস্তিতে এই টাকা মেটাবে রাজ্য। ৬ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তি এবং ৩১ মার্চের মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তি দেবে।
বকেয়া ডিএ দেওয়ার বিষয়ে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি গঠন হবে। মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দেওয়ার পর আরও ৭৫ শতাংশ বাকি থাকবে। সেই বকেয়া নিয়ে ওই চার সদস্যের কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। কী ভাবে, কতগুলি কিস্তিতে বকেয়া দিতে হবে রাজ্যকে, সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে ওই কমিটি। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, রোপা রুল নিয়ম অনুযায়ী ডিএ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অধিকার।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ রাজ্যেকে বকেয়া ডিএ-র ৫০ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু রাজ্যের তরফে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি জানান, ৫০ শতাংশ বকেয়া ডিএ দেওয়া এখনই সম্ভব নয়। তা হলে রাজ্যের কোমর ভেঙে যাবে। তখন আদালত জানায়, অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। ৬ সপ্তাহের সময়ও বেঁধে দেয় শীর্ষ আদালত। কিন্তু সময়সীমা শেষের ঠিক আগে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। আরও ছ’মাস সময় চাওয়া হয়। সেইসময় ৪ আগস্ট থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন এই মামলার শুনানি হয়েছে বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর বেঞ্চে। তবে ১২ আগস্ট মামলার শুনানি পিছিয়ে যায়, কারণ রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলায় ব্যস্ত ছিলেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানি শেষ হয়। রায়দান স্থগিত ছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার সেই মামলার রায় দিল শীর্ষ আদালত।
২০০৮ সালের অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত যে পরিমাণ ডিএ বকেয়া ছিল, এখানে সেই বকেয়ার ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই নির্দেশের সাথে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বর্তমানে যে ৪০ শতাংশ ডিএ-র ফারাক, তার কোনও সম্পর্ক নেই।
কেন্দ্রীয় কর্মীদের মতো রাজ্যের কর্মীরাও সমান হারে মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আবেদন জানাচ্ছিলেন। তার উপর বহু বছরের ডিএ বকেয়া পড়ে আছে। এই নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় সরকারী কর্মচারীদের সংগঠন। ২০২২ সালে হাই কোর্টের রায়ে স্পষ্ট বলা হয়, ডিএ কর্মীদের অধিকার এবং কেন্দ্রীয় হারে তা দেওয়া উচিত। কিন্তু সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। আদালতে রাজ্যের পক্ষ থেকে সওয়াল করা হয়, ডিএ কোনও মৌলিক অধিকার নয় এবং আর্থিক সঙ্কটের কারণে তা তৎক্ষণাৎ দেওয়া সম্ভব নয়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন