

ভোট ঘোষণার ঠিক আগেই কর্মীদের ডিএ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে বেতনপ্রাপ্ত কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ দাবির আন্দোলন করছিলেন। মামলা গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। সুপ্রিম নির্দেশের পরেও ডিএ না পাওয়ায় গত ১৩ মার্চ ধর্মঘটে সামিল হন কর্মচারীরা। এরপর রবিবার দুপুরে এক এক্স বার্তায় ডিএ দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিনের এক্স বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ডিএ দেবে রাজ্য সরকার। এই মাসেই অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরে আন্দোলনের জয় দেখছেন রাজ্য সরকারের কর্মচারীরা।
রবিবার ডিএ সংক্রান্ত পোষ্টে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, "আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘোষণা করছি যে, আমাদের ‘মা-মাটি-মানুষ’ সরকার তার সকল কর্মচারী ও পেনশনভোগী, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, এবং পঞ্চায়েত, পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সংস্থার মতো অনুদান-প্রাপ্ত (grant-in-aid) প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের প্রতি কৃত প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে।
আমাদের অর্থ দপ্তর কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত পদ্ধতি ও নির্দেশিকা অনুযায়ী, তাঁরা ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে তাঁদের ‘ROPA 2009’-এর বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA arrears) পেতে শুরু করবেন।"
এর পাশাপাশি পুরোহিত ও মোয়াজ্জেমদের ভাতাও বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার মাত্র কিছু সময়ের আগে তিনি জানিয়েছেন, পুরোহিত ও মোয়াজ্জেমদের ভাতা মাসে আরও ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন থেকে তারা মাসে মোট ২ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত, এর আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেবার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। যদিও সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। সেখানেও রাজ্য সরকারকে পিছু হটতে হয়। সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া ডিএ-এর ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেবার নির্দেশ দেয়। সময় বেঁধে দেওয়া হয় ৬ সপ্তাহ। যদিও সেই সময়ের মধ্যে ডিএ না মেটানোয় ফের আন্দোলনে নামে সরকারি কর্মীরা।
এরপর গত ৫ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালতে বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, ডিএ আইনি অধিকার, বকেয়া ডিএ দিতেই হবে। দু’দফায় মে মাসের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ। প্রথম কিস্তি দিতে হবে মার্চ মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন