রাজ্যে এসআইআর শুনানিতে সাধারণ মানুষের হয়রানির প্রতিবাদে আগামী ১৭ জানুয়ারি পথে নামছে সিপিআইএম। বুধবার দলের রাজ্য দফতরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এদিন বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়ে তিনি বলেন, এসআইআর শুনানির নামে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
১৭ জানুয়ারি বিক্ষোভের ডাক দিয়ে এদিন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, অন্যায় যখন আইন হয়ে যায় তখন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়। নির্বাচন কমিশন আইন মানছে না। ইলেকশন রেজিস্ট্রেশন আইনের সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুসারে ফর্ম ১২-তে নোটিশ দিতে হয়। অথচ বিএলও-দের দিয়ে ফোন করে বলানো হচ্ছে, ডেকে পাঠানো হচ্ছে।
এসআইআর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এদিন মহম্মদ সেলিম বলেন, বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ বলে কিছু ছিল না। আমাদের রাজ্যেও এই প্রক্রিয়া শুরুর সময়ও কিছু বলা হলো না। খসড়া তালিকা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর এই বিষয়টি তাহলে কীভাবে আনা হলো? জোর করে নাম বাদ দিতেই হবে, তার জন্য? লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’র নামে চরম অযৌক্তিক কাজ হচ্ছে। যুক্তির ধার ধারছে না কমিশন।
এদিন তিনি প্রশ্ন তোলেন কার নির্দেশে হচ্ছে এসব? কালীঘাট না নাগপুর? কার কটা সন্তান সেটা দেখাও কমিশনের কাজ নয়। উত্তরপ্রদেশেও তো হচ্ছে SIR, সেখানেও তো একাধিক বিজেপি নেতার ছয় সন্তান রয়েছে। তাঁদের নোটিশ পাঠাচ্ছে না কেন? তিনি আরও বলেন, মালদা বা মুর্শিদাবাদে ‘আনম্যাপড’, অর্থাৎ ২০০২’র তালিকার সঙ্গে কোনও সংযোগ মেলেনি, এই হার ছিল সবচেয়ে কম। এখন এসব জেলাতেই বেছে বেছে গুচ্ছ গুচ্ছ নোটিশ পাঠানো হচ্ছে কী করে? কোন যুক্তিতে? সবচেয়ে সমস্যায় ফেলা হচ্ছে মহিলা, সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি, আদিবাসী সহ প্রান্তিক মানুষকে।
আগামী ১৭ জানুয়ারি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রয়াণ দিবস। সেই প্রসঙ্গ টেনে এদিন মহম্মদ সেলিম বলেন, বাবরি মসজিদ ভাঙার পর জ্যোতি বসু বিজেপি এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তিকে বলেছিলেন অসভ্য-বর্বর। আজ দেশজুড়ে আমরা তা দেখতে পাচ্ছি। আসামে আদানির জন্য গরিব মানুষকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ওড়িশায় পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর শুধু আক্রমণ নয়, উদ্বাস্তুদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। উত্তরাখণ্ডে বিজেপি নেতাকে ‘খুশি করতে’ রাজি না হওয়ায় হোটেলের রিসেপশনিস্ট অঙ্কিতা ভাণ্ডারিকে খুন করা হয়েছে। দেশজুড়ে বিজেপি’র এই অসভ্যতা-বর্বরতার প্রতিবাদে ১৭ জানুয়ারি সর্বত্র রাস্তায় নামবে সিপিআই(এম)।
এদিন মহম্মদ সেলিম বলেন, সামনেই সাধারণতন্ত্র দিবস। জনসাধারণের থেকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে তার অধিকার। সর্বজনীন ভোটাধিকারের মত বিষয় গুলিয়ে দিয়ে গণহারে সাধারণ মানুষের ভোটদানের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। আমাদের দেশের সংবিধান আমাদের সর্বজনীন ভোটের অধিকার দিয়েছে। আরএসএস-বিজেপি ফ্যাসিস্ট কায়দায় সেই গণতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। শুধুমাত্র একটি অংশের জন্য গণতন্ত্রকে সংরক্ষিত করতে চাইছে একটি অংশের জন্য। এর বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে মানুষকে পথে নামতে হবে, বিক্ষোভে শামিল হতে হবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন