

সিপিআইএম নেতা তথা আইনজীবী সায়ন ব্যানার্জিকে প্রার্থী করার প্রস্তাব দিয়ে ফোন করা হয়েছিল বিজেপির তরফ থেকে? সায়ন ব্যানার্জি নিজেই প্রকাশ্যে এই দাবি করলেন। তবে তাঁর এই দাবি অস্বীকার করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত ভট্টাচার্য। বিজেপি নেতাকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করেছেন সিপিআইএম-এর তরুণ নেতা।
বিজেপির ফোন করা নিয়ে বুধবারই মুখ খোলেন সায়ন ব্যানার্জি। দলীয় কাজে কোচবিহারে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই তিনি দাবি করেন, দিল্লী থেকে তিনবার তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘'গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের (বিজেপি) সেন্ট্রাল কমিটির পক্ষ থেকে আমাকে ৩ বার ফোন করা হয়েছে, একজন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ও পর্যবেক্ষকের সঙ্গে বসবার জন্য। স্বাভাবিকভাবে আমি তাদের বলি, আমি যে মতাদর্শে বিশ্বাসী তার সঙ্গে বিজেপির মতাদর্শের মিল নেই। এরপর তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আপনাকে অনুরোধ করছি, আপনি যদি একটু সময় দেন৷… আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছি। কারণ, আমার পক্ষে সিপিএম ছাড়া সম্ভব নয়। আমি এই দলের প্রতি কৃতজ্ঞ।''
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সায়নের এই দাবি অস্বীকার করেন। এরপর বৃহস্পতিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ফের এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন সায়ন। তিনি লেখেন, ''এটা ঠিক, গত ১৭/০২/২০২৬-এ মোট ৩ বার ফোন এসেছে বিজেপির তরফ থেকে। তারা অনুরোধ করেছেন এই রাজ্যের দায়িত্বে থাকা এক পর্যবেক্ষকে এবং এক রাজ্য নেতার সাথে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তাদের সাথে বসার জন্য। এটাও ঠিক আমি অত্যন্ত ভদ্র এবং নম্রভাবেই সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছি।''
এরপরই সুকান্ত মজুমদারের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ''আমি ব্যক্তি কুৎসা এবং মিথ্যাকে ঘৃণা করি, আমি সংশোধীয় গনতন্ত্রে পারষ্পরিক সৌজন্যে বিশ্বাস করি তাই ফোন রেকর্ড করি না এবং যে নং থেকে ফোন করা হয়েছে সেটাও প্রকাশ্যে কাউকে দিই নি। কিন্তু সুকান্ত বাবু যদি চ্যালেঞ্জ করেন নিশ্চয়ই সেই নং প্রকাশ্যে আনবো।''
মিডিয়ার একাংশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তরুণ সিপিআইএম নেতা। তিনি বলেন, ''মিডিয়ার বন্ধুরা যে ভাবে গোটা বিষয়টি পরিবেশন করতে চাইলেন তা দুর্ভাগ্যজনক। আমার ছবি দিয়ে, আমার কথাকে মিস কোট করা হলো। খবরের ভিতরে লিখলেন আমি bjp-এর প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছি, কিন্তু হেডলাইনে লিখলেন দল ছাড়ছেন সায়ন!''
তাঁর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এইভাবে দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা চলছে। তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন,''গুজবে কান দেবেন না, দাঁতে দাঁত চেপে বাইনারি ভাঙার লড়াই জারি থাকুক।''
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন