CPIM: শিক্ষা, পরিবেশ, নারী ক্ষমতায়ন, মাইক্রোফিনান্স - ইস্তেহারের খসড়ায় ১১ বিষয় তুলে আনলো সিপিআইএম
নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারলেও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কোন কোন বিষয়কে সামনে রেখে এগোতে চায় রাজ্যের প্রধান বাম শক্তি সিপিআইএম তা স্পষ্ট করে দিল। শিক্ষা থেকে পরিবেশ। স্বাস্থ্য থেকে নারী ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষা। এরকমই গুরুত্বপূর্ণ এগারোটি বিষয় উঠে এল আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআইএম-এর খসড়া ইস্তেহারে। এই ইস্তেহার প্রসঙ্গে সাধারণ মানুষের মতামত চেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সিপিআইএম। তারপরেই প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত নির্বাচনী ইস্তেহার। শুক্রবার কলকাতার দলীয় রাজ্য দফতরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই ইস্তেহার প্রকাশ করেন সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবী এবং সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিম জানান, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক প্রস্তুতি, আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি রাজ্য কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তার আগেই আমরা আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করে ফেলতে চাই। আগামী ১৮ তারিখে বামফ্রন্টের বৈঠকে সেই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়ে যাবার সম্ভাবনা।
সেলিম বলেন, এ রাজ্যকে বাঁচাতে হলে কী করণীয়, আমরা কী ভাবছি, মানুষ কী চাইছেন তা নিয়েই ভাবনা চিন্তা চলছে। ভয়াবহ অবস্থা রাজ্যের ও দেশের। আমরা সেগুলো মাথায় রেখেই এগোচ্ছি। আমরা রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মানুষের ইস্তেহার তৈরি করতে চেয়েছি। ইস্তেহার চূড়ান্ত করার আগে আমরা সাধারণ মানুষের মতামত আহ্বান করছি।
এদিন যে খসড়া ইস্তেহার সিপিআইএম-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়েছে তার শীর্ষক ‘বাংলার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুন। আপনার মতামত, আমাদের ইস্তেহার।’ ইস্তেহারে আছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষা, কর্মসংস্থান, শ্রমিক সুরক্ষা, কৃষি উন্নয়ন, মাইক্রোফিনান্স, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবহন ব্যবস্থা, শিল্পায়ন ও পরিবেশের মত এগারোটি বিষয়। এই বিষয়গুলি ছাড়া যদি আরও কোনও বিষয় কেউ যুক্ত করতে চান সেই প্রসঙ্গে মতামত আহ্বান করা হয়েছে। বাংলা বাঁচাও ডট কম নামক ওয়েবসাইটে এই মতামত জানানো যাবে বলে জানিয়েছেন সিপিআইএম নেতৃত্ব।
এক নজরে ইস্তেহার -
শিক্ষা
স্কুল ও কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত এবং নিয়মিত করা। শূন্যপদ পূরণ করা। পড়াশোনার পাশাপাশি কারিগরি ও হাতে-কলমে কাজের প্রশিক্ষণকে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা।
স্বাস্থ্য
গ্রাম বা ব্লক স্তরের হাসপাতালেই উন্নত চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিশ্চিত করা যাতে 'রেফার কালচার' বন্ধ হয়। সমস্ত সরকারি হাসপাতালে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ এবং সব ধরনের ল্যাবরেটরি পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা।
নারী ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষা
মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসার সাথে যুক্ত এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোকে সরকারি গ্যারান্টিতে সম্পূর্ণ সুদমুক্ত ঋণের সুবিধা প্রদান করা। মহিলাদের সুরক্ষায় বিশেষ পিঙ্ক পুলিশ স্কোয়াড মোতায়েন করা।
কর্মসংস্থান
রাজ্য সরকারের সমস্ত দপ্তরে পড়ে থাকা শূন্যপদগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে স্বচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমে পূরণ করা। অস্থায়ী কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট কাজের সময়, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিমা নিশ্চিত করা।
শ্রমিক সুরক্ষা
অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য বাজারের মূল্যবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মাসিক মজুরি' নির্ধারণ ও তা কঠোরভাবে কার্যকর করা। ভিনরাজ্যে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য বিশেষ দুর্ঘটনা বিমা এবং তাদের পরিবারের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিষেবা নিশ্চিত করা।
কৃষি উন্নয়ন
২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মকুব। ১৭টি প্রধান ফসলের জন্য ‘ন্যূনতম সহায়ক মূল্য’ (MSP) নির্ধারণ ও সরকারি ক্রয়ের ব্যবস্থা। কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান।
মাইক্রোফিনান্স
মাইক্রোফিন্যান্স সংস্থাগুলোর চড়া সুদের হার নিয়ন্ত্রণে কড়া আইন এবং তদারকি ব্যবস্থা চালু করা। গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে সরকারি ব্যাংক থেকে নামমাত্র সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা যাতে বেসরকারি ঋণের জাল থেকে তারা মুক্তি পান।
গ্রামীণ উন্নয়ন
বছরে ১২০ দিনের কাজের গ্যারান্টি, আবাস যোজনায় ঘর নিশ্চিত করা, গ্রামীণ এলাকায় প্রতিটি সংযোগকারী রাস্তা পাকা করা।
পরিবহন ব্যবস্থা
টোটো রেজিস্ট্রেশনের নামে বেআইনি তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করে সহজ অনলাইন রেজিস্ট্রেশন। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে নিকটবর্তী শহর বা রেলস্টেশন পর্যন্ত নিয়মিত সরকারি বাস সার্ভিস চালু।বাস, লরি ও অটো চালকদের জন্য বিশেষ বিমা এবং তাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা সহায়তার ব্যবস্থা।
শিল্পায়ন
স্থানীয় স্তরে ছোট শিল্প স্থাপনে সরকারি সহায়তা ও ঋণের সহজলভ্যতা। রাজ্যে বড় বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা।
পরিবেশ
গঙ্গা ও পদ্মা পাড়ের নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী বৈজ্ঞানিক সমাধান। বায়ু দূষণ রোধে ‘গ্রিন বেল্ট’ তৈরি এবং নির্মাণের ধুলোবালি নিয়ন্ত্রণে কড়া আইন। পরিবেশ ধ্বংসকারী অবৈধ বালিখাদান ও পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং অরণ্য রক্ষা। পৌরসভা ও ব্লক স্তরে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আবর্জনা ফেলার (Waste Management) স্থায়ী সমাধান।
SUPPORT PEOPLE'S REPORTER
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন
